1. editor@dailybogratimes.com : dailybogratimes. :
ইন্টারনেটের ওপর করারোপ, সমালোচনায় তরুণরা » Daily Bogra Times
Logo শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ০১:১৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত, আহত ১২ করতোয়া নদীতে নারীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ হার দিয়েই সুপার এইটের যাত্রা শুরু বাংলাদেশের ঢাকার বাজারে কাঁচা মরিচের কেজি ৪০০ টাকা ইংরেজীতে উপস্থাপনায় দেশসেরা ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী পাঁচবিবির জোবাইদা নাচোলে হত্যা মামলার আসামীর রহস্যজনক মৃত্যু এক ছাগলেই ওলট-পালট করে দিলো লাকি-মতিউর এর সংসার চাঁপাইনবাবগঞ্জে জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১ প্রস্রাবের রং দেখেই রোগ ও চিকিৎসা নির্ণয় রাসেলস ভাইপার থেকে বাঁচার দোয়া পাচারের কারণেই ডলার সংকটের শুরু, সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ঘুমন্ত অবস্থায় পাহাড়ধস, স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু তিস্তায় বিপৎসীমার ওপরে পানি , ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি আলভারেজ-মার্টিনেজের গোলে কোপায় শুভসূচনা আর্জেন্টিনার সুপার এইট এ- ১৪০ রানে থামল বাংলাদেশ, বৃষ্টির হানা

ইন্টারনেটের ওপর করারোপ, সমালোচনায় তরুণরা

নিউজ ডেস্কঃ-
  • শনিবার, ৮ জুন, ২০২৪
  • ১৪ বার পঠিত
ইন্টারনেটের ওপর করারোপ, সমালোচনায় তরুণরা
print news

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিদিনের বাংলাদেশের কাছে প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় তাদের কেউ কেউ বাজেট প্রস্তাবকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। আবার কেউ বলেছেন, এ বাজেট ধনী-গরিবের বৈষম্য বাড়াবে। বাজেট ঘোষণার পর নিত্যপণ্যের দাম কমবে কি না সেদিকেই বিশেষ নজর সাধারণ মানুষের।

তরুণ প্রজন্ম মনে করে, এবারের বাজেটে মোবাইল ফোনের কলরেট ও ইন্টারনেটের খরচ বাড়ানোর প্রস্তাবের কারণে ডিজিটাল তথা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে ল্যাপটপের দাম ও কিডনি ডায়ালাইসিসের খরচ কমানোর প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকে।

অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের পরিকল্পনাকে তুলে ধরে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। 

ইন্টারনেটের ওপর করারোপের সমালোচনা বেশি 

প্রস্তাবিত বাজেটে ইন্টারনেটের ওপর করারোপ করা নিয়ে বেশ সমালোচনা করছেন তরুণরা। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন অনেকে। ফাতেমাতুজ্জোহরা মৌ পড়াশোনা শেষ করে একটি ব্যাংকে চাকরি করছেন। তিনি বলেন, ‘কারিগরি শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এটা ভালো দিক। অপরদিকে ইন্টারনেটের ওপর করারোপ করাটা মনে হয় ঠিক হয়নি।’ 

একই কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘যখন স্মার্ট বাংলাদেশের চিন্তা করা হচ্ছে, তখন কলরেট, ইন্টারনেটের ব্যয় বাড়ানোটা বোকামি। শিক্ষা তো এখন অনেকাংশে ইন্টারনেট নির্ভর।’

বাংলামোটরের বিকাশ এজেন্ট রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হঠাৎ করেই টকটাইমের মিনিট কমে গেল। যে টাকা দিয়ে ২৫ মিনিট পেত তা দিয়ে পাচ্ছে ২০ মিনিট। ক্রেতারা প্রশ্ন করছে, কেন কম মিনিট পাচ্ছে। হঠাৎ এভাবে খরচ বেড়ে গেলে মানুষের সমস্যা তো হয়ই।’ 

কালো টাকা সাদা করার বিষয়েও অসন্তুষ্টি 

বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও সমালোচনা করছেন সাধারণ মানুষ। মিরপুরের বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী শাকিল ইমরান বলেন, ‘যারা বৈধ উপায়ে ইনকাম করছে তাদের জন্য ৩০ শতাংশ করারোপ করা হলো। অপরদিকে কালো টাকা সাদা করার ক্ষেত্রে কমে দাঁড়াচ্ছে ৩০ থেকে ১৫ শতাংশ।’

বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা সারাহ হোসেন বলেন, ‘বাজেটে মাত্র ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এই হার খুবই কম বলে মনে করি। এ ছাড়া এটি সাধারণ করদাতাদের জন্য বৈষম্যমূলকও।’

নিত্যপণ্যের দাম এখনও বেশি

গতকাল শুক্রবার বাজেট নিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আঃ সালাম বলেন, ‘মূল্যস্ফীতির চাপে রয়েছে দেশের মানুষ। প্রতিদিন বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। এ থেকে প্রতিদিনই বাড়ছে ধনী-গরিবের বৈষম্য। যে বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে বৈষম্য আরও বাড়বে। গরিব আরও গরিব হবে, ধনী আরও ধনী হবে। অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়তে থাকলে প্রবৃদ্ধিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো কার্যকরী উদ্যোগ নেই। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছে। এর মাঝে লড়াই করে জীবনযুদ্ধে টিকে আছি। দুই বছর আগে এক কেজি ইলিশ কিনে খেয়েছিলাম। বাচ্চারা গরুর মাংস খেতে চাইলেও কিনে খাওয়াতে পারিনি। তাদের বলেছি, কোরবানির সময় ভালো মাংস পাওয়া যায়, তখন সবাই মিলে খাব।’ 

রাজধানীর হাতিরপুল বাজারে গতকাল সকাল সকাল বাজার করতে আসেন আরেফা বেগম। তিনি বলেন, ‘সবকিছুর দাম তো সেই একই রয়ে গেল। বাজেটে যখন কোনো কিছুর দাম কমার কথা বলে, সেটি কার্যকর হতে অনেক সময় লাগে। কিন্তু যেসব জিনিসের দাম বাড়ার কথা বলা হয়, তা পরের দিনই বেড়ে যায়। আমার কাছে তো কোনো পরিবর্তন মনে হচ্ছে না। মুরগির দাম কমেছে, কিন্তু সেটাও খুব বেশি কমেনি। গুঁড়া দুধের দাম শুনেছি কমবে। তবে সেটাও আসলে কতটুকুইবা কমবে।’ 

কালো টাকা সাদা করার বিষয়েও অসন্তুষ্টি 

বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও সমালোচনা করছেন সাধারণ মানুষ। মিরপুরের বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী শাকিল ইমরান বলেন, ‘যারা বৈধ উপায়ে ইনকাম করছে তাদের জন্য ৩০ শতাংশ করারোপ করা হলো। অপরদিকে কালো টাকা সাদা করার ক্ষেত্রে কমে দাঁড়াচ্ছে ৩০ থেকে ১৫ শতাংশ।’

বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা সারাহ হোসেন বলেন, ‘বাজেটে মাত্র ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এই হার খুবই কম বলে মনে করি। এ ছাড়া এটি সাধারণ করদাতাদের জন্য বৈষম্যমূলকও।’

সাধারণ মানুষের জন্য সুখবর নেই 

আলতাফ হোসেন নামের একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে মধ্যবিত্ত ও অল্প আয়ের মানুষের জন্য কোনো সুসংবাদ নেই। মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। নিত্যপণ্যের দাম কমানোর জন্য বাজেটে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেই। এ বাজেট জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেবে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের কষ্ট আরও বাড়াবে।

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে এনজিওকর্মী ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বাজেট বিষয়টি আজও সর্বজনীন হয়নি। এবারের বাজেটেও বড়লোকদের দিকটি যেভাবে বিবেচনা করা হয়েছে মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত কিংবা অতিদরিদ্রদের কথা সেখানে উপেক্ষিতই থাকছে। এক কথায় কোন জিনিসের দাম কমছে কিংবা কোনটায় ভর্তুকি বাড়ছে সেটা দেখলেই সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝা যায়। আমাদের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশকে বরাবরের মতোই অবহেলায় রাখা হয়েছে। 

সন্তুষ্টিও আছে অনেক বিষয়ে

বাজেটকে সাধুবাদও জানাচ্ছেন অনেকেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনামিকা আহমেদ বলেন, ল্যাপটপের দাম কমছে এটা আমাদের জন্য ভালো দিক। এখন পড়াশোনার জন্য ল্যাপটপ অত্যাবশ্যকীয় হয়ে উঠেছে। সে ক্ষেত্রে এ দিকটা আমার মনে হয় পজিটিভ। কিডনি ডায়ালাইসিসে খরচ কমবে। অনেকেই এই ডায়ালাইসিসে করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। এটা তাদের জন্য সুখবর বলেই আমার মনে হয়। এছাড়া চা-কফির দামও কমবে। এটা ছাড়া তো আমাদের চলেই না। সেদিক থেকে এবারের বাজেটকে খুব বেশি মন্দ বলা যাবে না। 

রাজধানীর রামপুরার বাসিন্দা সাহীনুল ইসলাম বলেন, সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক সংকট চলছে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার গণমুখী বাজেট ঘোষণা করেছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণেও এ বাজেট ভূমিকা রাখবে। বাস্তবসম্মত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেট মোটেও উচ্চাভিলাষী নয়। এটি জনবান্ধব বাজেট। গরিব ও মধ্যবিত্তদের বাঁচানোর এবং অপচয় ও দুর্নীতি হ্রাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনেকেই জানেন না কি আছে বাজেটে

সাধারণ মানুষের অনেকেরই আবার বাজেট নিয়ে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। অনেকের এ বিষয়ে কিছুই জানা নেই। তাদের একজন রাজধানীর মগবাজারের আমবাগানের বাসিন্দা মাদারীপুর মেডিকেল হলের স্বত্বাধিকারী আবু জাফর। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বাজেট দিয়েছে জানি। কিন্তু বাজেটে কী আছে জানি না। তবে প্রতি বছরের মতো এবারের বাজেটের পরও হয়তো জিনিসপত্রের দাম বাড়বেÑ এটাই আমার কাছে মনে হয়।’ বাজেটে কী আছে সেটা তিনি পরে কোনো একসময় জেনে নেবেন বলে জানান।

এনাম হক / ডেইলি বগুড়া টাইমস

আরো খবর
© All rights reserved by Daily Bogra Times  © 2023
Theme Customized BY LatestNews