1. editor@dailybogratimes.com : dailybogratimes. :
কম দামেও তরমুজ কিনছেন না মানুষ, দুশ্চিন্তায় বিক্রেতারা » Daily Bogra Times
Logo বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:২৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
ফুলবাড়ীতে পরিবার পরিকল্পনা স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদীর লক্ষ্যে অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত শেরপুরে কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ শেরপুরে ৩০টি গাঁজার গাছ উদ্ধার করেছে পুলিশ শেরপুর ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবস পালিত পাবনায় সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় মামলা ২৪ ঘণ্টায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ ফুলবাড়ীতে পরিবার পরিকল্পনা স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদীর লক্ষ্যে অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত মহাদেবপুরে বিষ প্রয়োগে চার বিঘা জমির ধান পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ আদমদীঘিতে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উৎযাপন বগুড়ার গাবতলীতে মারপিটে মা-ছেলে আহতঃ থানায় অভিযোগ পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটিতে স্থান পেলেন সংসদ সদস্য ড. জান্নাত আরা হেনরী  সারিয়াকান্দিতে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত গোবিন্দগঞ্জে অটোরিক্সা চালক দুলা মিয়া হত্যাকান্ডে জড়িতদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন  নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে হিলিতে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত  নওগাঁর আত্রাইয়ে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত নওগাঁর আত্রাইয়ে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করণে এমপি সুমনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

কম দামেও তরমুজ কিনছেন না মানুষ, দুশ্চিন্তায় বিক্রেতারা

নিউজ ডেস্কঃ-
  • রবিবার, ৩১ মার্চ, ২০২৪
  • ২০ বার পঠিত
কম দামেও তরমুজ কিনছেন না মানুষ, দুশ্চিন্তায় বিক্রেতারা
print news

মার্চের শুরুতে প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা দরে। রমজান শুরু হওয়ার পর সে দাম ৮০ টাকায় নামে। কিন্তু বেশি দামের পাশাপাশি অপরিপক্ব হওয়ায় তরমুজে আগ্রহ কম ছিল সাধারণের। এর মধ্যে ফেসবুকে তরমুজ ‘বয়কটের’ ডাক আসে। ফলে ফলটির বিকিকিনি কমে যায় আরও। 

রোজা শুরুর এক সপ্তাহ পর তরমুজ বিক্রি বলতে গেলে তলানিতে এসে ঠেকে। বিপাকে পড়েন বিক্রেতারা। সারা দিনে হাতেগোনা কয়েকটা বিক্রি হলেও বেশিরভাগই দোকানে অবিক্রীত থেকে যাচ্ছিল। এতে বাধ্য হয়ে ৪০ টাকায় নামিয়ে আনা হয় তরমুজের কেজি। শুধু তাই নয়, আকারভেদে এখন পিস ২০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। ‌তারপরও ক্রেতাদের বড় অংশ এখনও তরমুজ বিমুখ। এতে তরমুজ ব্যবসায়ী এবং ফল দোকানিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। 

আড়ৎ থেকে পিস হিসেবে দুই ক্যাটাগরির তরমুজ বিক্রির জন্য কিনে এনেছেন বিল্লাল মিয়া নামে এক ব্যবসায়ী। তিনি গুলশানের গুদারাঘাটের পাশে বসিয়েছেন তার অস্থায়ী দোকান। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি তরমুজগুলো সেখানে থরে থরে সাজিয়ে রেখেছেন, কিন্তু বিক্রি নেই সেভাবে। 

তরমুজ বিক্রির এমন চিত্রের বিষয়ে বিল্লাল মিয়া বলেন, এবার প্রথম থেকেই তরমুজ বিক্রি খুব কম হচ্ছে। এটা হতে পারে দাম বেশির কারণে। তবে এখন দাম আগের চেয়ে কমেছে, তবুও এখনো খুব বেশি বিক্রি বাড়েনি। রমজানে তরমুজের খুব চাহিদা থাকার কথা, কিন্তু এবার সে অনুযায়ী ক্রেতাদের চাহিদা দেখা যায়নি।

তরমুজ বিক্রির সার্বিক বিষয়ে একই স্থানের আরেক বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এত বছর ধরে ব্যবসা করছি তরমুজ নিয়ে কোনোবার এমন বিপাকে পড়িনি। আজ ১০ দিনের মতো হবে তরমুজ এনেছি, দোকানের মধ্যে থরে থরে সাজিয়ে রেখেছি। কিন্তু সেভাবে এবার বিক্রি নেই। প্রথমদিকে ১০০ টাকা কেজি ছিল, পরে ৮০ টাকা হলো, এরপর আবার ৬০ টাকা, সবশেষ এখন আজ প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। কিন্তু আগে যখন তরমুজের ব্যবসা করেছি তখন দিনে ১০০ পিছ বিক্রি করেছি। আর এখন সারাদিনে ১৫/২০টা বিক্রি হয় না ঠিকমতো। রমজান মাস এলে তরমুজের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কথা, অন্যান্যবার বেড়ে গেছে, কিন্তু এবার চিত্র উল্টো। অর্ধেক রমজান চলে গেছে কিন্তু তরমুজ বিক্রি সেভাবে আর হয়নি। রমজান মাস শেষ হয়ে গেলে তরমুজের চাহিদা কমে যাবে, তখন যে ব্যবসার কী হবে এটা ভাবলে আরো ভয় লাগে।

কারওয়ান বাজারে ফল ভাণ্ডার নামে একটি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে পাইকারি তরমুজের ব্যবসা করছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক সহযোগী হিসাবে কাজ করেন খোরশেদ আলম নামের একজন। তিনি বলেন, প্রথমদিকে তরমুজের দাম বেশি ছিল, ইদানীং প্রচুর সরবরাহ হচ্ছে, ফলে দাম কমে গেছে। আগে যে তরমুজ দেড়শ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি করেছি, সেটা এখন ৮০ টাকার মতো বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আড়তে পাইকারি কিনতে ক্রেতারা কম আসছে। এর কারণ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে যারা দোকানের মাধ্যমে তরমুজ বিক্রি করে, তারা আগে যে মাল নিয়ে গেছে সেই মালই তাদের রয়ে গেছে, এখনো বিক্রি করতে পারেনি। আগের তরমুজ ফুরালে তারপরে তো তারা কিনতে আসবে।

রাজধানীর মহাখালী আইসিডিডিআরবি,র পাশে ভ্যানে করে তরমুজ বিক্রি করছিলেন নাসির উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ী। তরমুজের দরদাম বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে তরমুজ ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি, যদি কেউ পিস হিসেবে নিতে চায় সেটাও বিক্রি করছি। ভালো বড় সাইজের তরমুজের দাম একটু বেশি, আর মাঝারি ছোট সাইজের তরমুজের প্রতিটার দাম দেড়শ থেকে ৩০০ টাকা। আরেকটু বড়গুলো অর্থাৎ ১০/১২ কেজি ওপরে ৪০০ টাকায় বিক্রি করছি। তবে এ বছর ব্যবসার অবস্থা খুব খারাপ, এই রমজান মাসেও মানুষ খুব কম তরমুজ কিনছে।

পাইকারি বাজারে কেমন দামে এই তরমুজগুলো কিনে আনেন, এমন প্রশ্নে কিছুটা এড়িয়ে গিয়ে এই বিক্রেতা বলেন, আগে বেশি দামে কিনতাম, বেশি দামে বিক্রি করেছি। এখন কিছুটা কম দাম, কম দামে বিক্রি করছি। 

কোনটা কেমন দামে কেনা পড়েছে বিষয়টি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত না বললেও, কিছুটা ধারণা দিয়ে বলেন, পাইকারি বাজারে প্রতি ১০০ হিসেবে তরমুজ কেনা হয়। ছোট সাইজেরগুলোর দাম ৭০-৮০ টাকা পিস পড়তে পারে, বড়গুলোর দাম ১৫০ টাকা দাম পড়তে পারে। এরপরে রাস্তা খরচ আছে, পরিবহন খরচ আছে, শ্রমিক খরচ, দোকান খরচ সবমিলিয়ে একটি দাম নির্ধারণ করে বিক্রেতারা বিক্রি করে।

মহাখালীর বাজারে তরমুজ কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আহসান হাবীব বলেন, এ বছর রমজানে একদিন শুধু তরমুজ কিনেছিলাম টেস্ট করার জন্য। কিন্তু এত বেশি দাম, অসাধু ব্যবসায়ীরা কেজি দরে বিক্রি করে, অপরিপক্ব তরমুজ তবুও বেশি দাম, এদিকে এদের সিন্ডিকেট দৌরাত্ম্য দূর করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তরমুজ বয়কটের ডাক…. সব মিলিয়েই এবার আর তরমুজ কিনিনি। কিন্তু এখন ম্যাংগো পিপলের ক্ষমতা সম্পর্কে জেনেছে তরমুজ ব্যবসায়ীরা। আজকে তরমুজ ৪০ টাকা কেজিতে এসেছে শুধু সাধারণ মানুষ তরমুজ কিনেনি এ কারণেই। এখন ৪০ টাকা কেজি হওয়ার পর আজ একটি তরমুজ কিনতে এসেছি। তবুও দোকানে যদি পিস হিসাবে তরমুজ বিক্রি না করে তাহলে আবার কিনব না।

এনাম হক / ডেইলি বগুড়া টাইমস

আরো খবর
https://dailybogratimes.com/
© All rights reserved by Daily Bogra Times  © 2023
Theme Customized BY LatestNews