1. editor@dailybogratimes.com : dailybogratimes. :
পড়াশোনার পাশাপাশি মাশরুম চাষে সফল প্লাবন » Daily Bogra Times
Logo শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
সময় পেলেই সাঁতার কাটুন সহজে ধূমপান ছাড়ার টিপস পাবনায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১ আহত ২০ বগুড়ায় স্বামীকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৫ সংঘাত বাড়াতে চায় না ইরান, ইসরায়েলকে জানিয়েছে রাশিয়া ভোট দিতে এসে কেউ উৎফুল্ল, অনেকেই ক্ষুব্ধ! বিএনপির বিরুদ্ধে কোনও রাজনৈতিক মামলা নেই: প্রধানমন্ত্রী সোনার দাম ভরি ১ লাখ ২০ হাজার অতিষ্ঠ গরমে ঈশ্বরদীতে সড়কে কমেছে মানুষের চলাচল রাজশাহীতে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলের ৩ আরোহী নিহত তীব্র গরমে বেড়েছে শরবত ও ডাবের চাহিদা ফুলবাড়ীতে গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক ২০২৪ বিশ্বকে বাঁচাতে জীবাশ্ম জ্বালানিতে অর্থায়ন বন্ধের দাবি তরুণদের মানববন্ধন রাজশাহীতে তাপমাত্রা উঠল ৪১ ডিগ্রিতে! স্ত্রী সন্তানদের সামনেই ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল যুবকের ইসরায়েলের হামলা নয় বলে ইরান কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছে

পড়াশোনার পাশাপাশি মাশরুম চাষে সফল প্লাবন

কংকনা রায়, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :
  • সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ২৫ বার পঠিত
কমেন্টসে লিংক-
print news

কংকনা রায়, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :
ইচ্ছে শক্তি যে মানুষকে সফলতার মুখে নিয়ে যায় তারই বাস্তব উদাহরণ দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার পৌরএলাকার শিক্ষার্থী রাকেশ সরকার প্লাবন। পড়ালেখার পাশাপাশি উদ্যোক্তা হয়ে পরিবারে আর্থিক সহযোগিতা দেয়াই লক্ষ্য ছিল তার। সে লক্ষ্যে নানান জল্পনা কল্পনার পরে মাথায় চেপে বসে মাশরুম চাষ। যা ভাবা তাই কাজ। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজ বাড়িতে পরীক্ষামূলকভাবে মাশরুম চাষ করে এলাকায় তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। মাত্র দুই মাসেই নিজেকে সফল উদ্যোক্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা মাশরুম এখন বাজার জাতের অপেক্ষায় আছে। ফুলবাড়ী উপজেলায় এর চাহিদা তেমন একটা না থাকায় এখন বাজারজাত নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার। তবে অনেক হোটেল রেস্তরায় তার উৎপাদিত মাশরুমের নমুনা চেয়েছে।

এদিকে এলাকায় অপরিচিত এই মাশরুম দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয়রা। যারা কি-না এখন পর্যন্ত জানেনই না এটিও একটি খাবারযোগ্য পণ্য। অনেকে ভাবছেন এটি ব্যাঙের ছত্রাক।
তরুণ এ উদ্যোক্তা পৌরএলাকার চাঁদপাড়া গ্রামের নিখিল চন্দ্র সরকারের ছেলে। বর্তমানে তিনি দিনাজপুর গ্লোবাল ইনস্টিটিউট অব সাইন্স টেকনোলজির ইলেক্ট্রিক্যাল ডিপ্লোমার তৃতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে একটি অসম্পন্ন কক্ষ। সেখানে নেই দরজা-জানালাসহ উপরে চালা। সেই কক্ষেই ওপরে বাঁশ দিয়ে দঁড়ি ঝুলিয়েছেন। সে দঁড়িতে টানিয়েছেন পলিথিন ব্যাগের ভেতরে থাকা খড় দিয়ে মোড়ানো মাশরুমের স্পন। যা রীতিমতো ঝুলে থাকছে।
উদ্যোক্ত রাকেশ সরকার প্লাবন বলেন, আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আমার বাবা। তিনি একজন শ্রমিক। তার উপার্জিত অর্থদিয়ে আমার পড়ালেখাসহ পরিবারের খরচ চলে। আমি এখন বড় হয়েছি। বাবার পাশাপাশি আমিও রোজগার করে পরিবারে সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু এতোদিন অনেককিছু চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। পরে একদিন মাথায় আশে মাশরুম চাষ করার। বিষয়টি নিয়ে আমি দিনাজপুর হর্টিকালচার সেন্টার ও ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে পরামর্শ গ্রহণ করি। তাদের পরামর্শে আমি মাশরুমের স্পন সংগ্রহ করি। গত জানুয়ারীর ১৩ তারিখে উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করি এবং ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ হতে মাশরুম সংগ্রহ করি। বর্তমানে মাশরুম উৎপাদন হচ্ছে।

তিনি বলেন, মাশরুম চাষ হলেও এখন বাজার জাত করা নিয়ে দুশ্চিন্তা। ফুলবাড়ী উপজেলায় মাশরুমের চাহিদা তেমন একটা নেই। যার ফলে বিভিন্ন রেস্তরা বা হোটেলে যোগাযোগ করছি কিন্তু তাদের তেমন আগ্রহ দেখছি না। তবে কিছু কিছু রেস্তরা ও হোটেল মালিকরা আমার উৎপাদিত মাশরুমের নমুনা চেয়েছেন। তাদেরকে সেগুলো দিয়েছে। এখন অপেক্ষা তাদের উত্তরের। তবে সরকারিভাবে কৃষি ঋণ বা সরকারি সহযোগিতা পাওয়া গেলে আরো বড় আকারে মাশরুম চাষের কথা জানান তরুণ এ উদ্যোক্তা।
উদ্যোক্তা আরো বলেন, প্রতি কেজি মাশরুম উৎপাদনে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা খরচ হয়। প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পাইকারি দরে বিভিন্নস্থানে বিক্রি হবে। এটি ওয়েস্টার জাতের মাশরুম। এগুলো বাজারদর ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা।

তরুণ এ উদ্যোক্তার বাবা নিখিল চন্দ্র সরকার ও মা রিক্তা রানী সরকার বলেন, ছেলে পড়ালেখার পাশাপাশি যখন প্রথমে মাশরুম চাষের কথা আমাদেরকে জানায় তখন আমরা বিরক্ত হই। বলি এসব করে কি হবে? কিন্তু তার জেদের কাছে আমরা হেরে যাই। সে নিজে থেকেই মাশরুম চাষ শুরু করে। এক পর্যায়ে যখন মাশরুম উৎপাদন শুরু করে তখন আমরাও তাকে সহযোগিতা করি। ছেলে দিনাজপুরের লেখাপড়া করায় সে বাড়িতে থাকে না। তাই আমরা দুই বেলা মাশরুমের সেই স্পনগুলোতে পানি স্প্রে করি। ছেলে ছুটি পেলেই ছুটে আসে। আশা করছি আমাদের ছেলে স্বাবলম্বী হবে। ঈশ্বর তার কষ্টকে সফলতার মুখ দেখাবেন।
প্রতিবেশী শিশির চন্দ্র প্রামানিক, সুমিতা রানী ও অরুনা সরকার বলেন, মাশরুম কি জিনিস তা আমরা আগে কখনো দেখিনি বা নামও শুনিনি। রাকেশ সরকার প্লাবন এটি যখন বাসায় চাষ শুরু করে তখন আমরা দেখি ব্যাঙের ছাতার মতো দেখতে। এটি খাওয়া যায় আমাদের প্রথমে বিশ্বাস হয়নি। পরে ইউটিউবে দেখি জানতে পারি যে এটিও খাদ্যপণ্য। মাশরুম চাষে সে সফল হলে আমরাও চাষ শুরু করবো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার বলেন, মানব দেহের জন্য খুবই উপকারী ও ঔষধিগুণে ভরপুর একটি দ্রব্যের সহজ সরল নাম মাশরুম। মাশরুম অত্যন্ত পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও ঔষধিগুণ সম্পন্ন খাবারের পাশাপাশি মাশরুম চাষ অনেক লাভজনক। মাশরুম একটি সম্ভাবনাময় ফসল। এদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু মাশরুম চাষের উপযোগী। মাশরুম চাষের জন্য কোনো উর্বর জমির প্রয়োজন হয় না। বসত ঘরের পাশে অব্যবহৃত জায়গা ও ঘরের বারান্দা ব্যবহার করে অধিক পরিমাণ মাশরুম উৎপাদন করা সম্ভব। উপজেলায় পরীক্ষা মূলকভাবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শে রাকেশ সরকার প্লাবন নামের এক শিক্ষার্থী মাশরুম চাষ করেছে। আমরা পরামর্শ দিচ্ছি।এছাড়া স্পন কেনার ব্যবস্থা করে দিয়েছি হর্টিকালচার সেন্টার থেকে। তার  কাছ থেকে আমিও মাশরুম কিনেছি। তাকে আরো দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণের জন্য মাশরুম উন্নয়ন ইনিস্টিউটে কথা বলা হয়েছে। 

এনাম হক / ডেইলি বগুড়া টাইমস

আরো খবর
https://dailybogratimes.com/
© All rights reserved by Daily Bogra Times  © 2023
Theme Customized BY LatestNews