# অনিয়ন্ত্রিত কার্ড সাংবাদিকতা: সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষায় করণীয়

- Link: https://dailybogratimes.com/%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a1-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%ac%e0%a6%be/
- Published: 2026-02-20T17:04:51+06:00
- Author: বার্তা বিভাগ

[[

দেশের সাংবাদিকতা অঙ্গনে আজ এক চরম সংকট দেখা দিয়েছে। তা হলো—কথিত ‘কার্ড সাংবাদিক’-
এর অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার। দেশের আনাচে-কানাচে এখন সাংবাদিক পরিচয়পত্রধারীর অভাব নেই।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এঁরা কি সত্যিই সাংবাদিক? নাকি কেবল একটি পরিচয়পত্রের মালিক?

তথ্য অধিদপ্তর (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত পত্রিকার বাইরেও অসংখ্য অনিবন্ধিত পত্রিকা ও অনলাইন
নিউজ পোর্টাল গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর সরকারি নিবন্ধন বা অনুমোদন না 
থাকলেও তারা বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়ে পরিচয়পত্র (কার্ড) বিতরণ করছে। শুধু
তা-ই নয়, অভিযোগ রয়েছে, অল্প টাকার বিনিময়ে ইজিবাইক চালক, কসাই, দোকানদারসহ নানা পেশার
মানুষকে সাংবাদিক[ পরিচয়পত্র দেওয়া](https://dailybogratimes.com/%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a1-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%ac%e0%a6%be/)
হচ্ছে। কোথাও কোথাও মাত্র ৫০০ টাকায় মিলছে এই কার্ড!

এ অবস্থায় এসব ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসে গিয়ে
নিজেদের সাংবাদিক দাবি করে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ মোটরসাইকেলে‘
প্রেস’ বা ‘সাংবাদিক’ স্টিকার লাগিয়ে ঘোরাফেরা করছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি
তৈরি হচ্ছে এবং প্রকৃত সাংবাদিকদের প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে।

একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে এ দৃশ্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল
ও নীতিনিষ্ঠ পেশা। কিন্তু এই পেশার মর্যাদা যখন প্রশ্নের মুখে পড়ে, তখন পুরো গণমাধ্যম
অঙ্গনই সংকটে পড়ে।

এই সমস্যার প্রধান কারণ কী? একজন লেখক-সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কিছু
পত্রিকার সম্পাদক ও সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি এবং অল্প টাকার লোভ থেকেই মূলত এই কার্ড বাণিজ্য
চলছে। যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়ার কারণে সাংবাদিকতার মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত
হচ্ছে।”

সাংবাদিকতার এই সংকট মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এ জন্য কিছু প্রস্তাবনা—

প্রথমত, নিবন্ধনবিহীন সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রম কঠোরভাবে যাচাই করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান
সাংবাদিক নিয়োগ দিতে চাইলে তাদের বৈধতা ও নিবন্ধন সনদ নিশ্চিত করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, সাংবাদিক পরিচয়পত্র প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর নীতিমালা অনুসরণ করা আবশ্যক। 
প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতা যাচাই করেই পরিচয়পত্র দেওয়া
উচিত।

তৃতীয়ত, ভুয়া পরিচয়ে অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা সাংবাদিক
পরিচয় ব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা আদায় করছেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

চতুর্থত, পেশাদার সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে এ বিষয়ে সোচ্চার হতে হবে। নিজেদের পেশার মর্যাদা
রক্ষায় তাদের কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

সচেতন মহলের অভিমত, প্রকৃত সাংবাদিকতা হলো দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ পেশা। তাই সাংবাদিক
পরিচয়পত্র প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর নীতিমালা অনুসরণ এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা
গেলে সাংবাদিকতার হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।

সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং পেশাদার সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে। তবেই
আমরা ফিরে পাব সাংবাদিকতার প্রকৃত চেহারা। তবেই সাধারণ মানুষ আবারও আস্থা রাখবে গণমাধ্যমের
প্রতি।

**লেখক: এনাম হক, সাংবাদিক ও কলাম লেখক।**
