
নিউজ ডেস্কঃ- অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ে আমলাতন্ত্রের একটি প্রভাবশালী অংশ বেশি ক্ষমতাশালী বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, উপদেষ্টা পরিষদ কোন কাগজে স্বাক্ষর করবে বা কোন সিদ্ধান্ত নেবে—সেটা আসলে তারা নির্ধারণ করতে পারে না। এসব সিদ্ধান্ত নেন আমলাতন্ত্রের ভেতরের অত্যন্ত ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা, যাদের গোষ্ঠীস্বার্থের পাশাপাশি রাজনৈতিক স্বার্থও জড়িত।
সোমবার (১২ জানুয়ারি ২০২৬) বেলা ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ প্রণয়নে সংস্কারবিমুখতা’ শীর্ষক টিআইবির একটি পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করা হয়।
টিআইবির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রণীত অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সব ক্ষেত্রে প্রতিরোধক মহল—বিশেষ করে আমলাতন্ত্রের প্রভাবশালী অংশের অন্তর্ঘাতমূলক অপশক্তির কাছে সরকার নতিস্বীকার করেছে। ফলে রাষ্ট্র সংস্কারের মূল লক্ষ্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে।
সরকারের এই নতিস্বীকারের কারণ জানতে চাইলে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সুনির্দিষ্ট উত্তর তার কাছে নেই। তবে দীর্ঘদিন সরকারকে কাছ থেকে দেখে তিনি বুঝেছেন যে, কোন সিদ্ধান্তে কী থাকবে বা থাকবে না—তা নির্ধারণ করে আমলাতন্ত্রের প্রভাবশালী অংশ।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সামান্য কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া সরকার একতরফাভাবে অংশীজনদের সম্পৃক্ত না করে অধ্যাদেশ প্রণয়ন করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে খসড়া অধ্যাদেশ স্বল্প সময়ের জন্য লোকদেখানো ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে দায় সারা হয়েছে।
কিছু ক্ষেত্রে প্রতিকূলতা কাটিয়ে অংশীজনরা অধিপরামর্শের সুযোগ করে নিলেও তাদের প্রস্তাবিত সংশোধনী ব্যাখ্যা ছাড়াই অবহেলিত হয়েছে। এমনকি কোনো কোনো অংশীজনের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে অপপ্রচারও চালানো হয়েছে।
টিআইবির পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সাইবার সুরক্ষা, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা, জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা—এসব অধ্যাদেশে জাতীয় স্বার্থের চেয়ে আমলাতন্ত্র ও ক্ষমতাসীনদের একচ্ছত্র, জবাবদিহিহীন কর্তৃত্ব অব্যাহত রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকার আইন প্রণয়ন ও জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রত্যাশিত স্বচ্ছতা ও স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশের উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারেনি।
এই পর্যবেক্ষণ অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়ায় আমলাতান্ত্রিক প্রতিরোধ এবং স্বচ্ছতার অভাবকে তুলে ধরে, যা রাষ্ট্র সংস্কারের মূল লক্ষ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে বলে টিআইবি মনে করে।