
ডেস্ক প্রতিবেদক, বগুড়া |
বগুড়ায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের জন্য কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ফুটওভার ব্রিজগুলো এখন অনেকটা ‘সাদা হাতি’তে পরিণত হয়েছে। ব্রিজের অবস্থান সঠিক স্থানে না থাকা এবং সড়ক বিভাজনের (ডিভাইডার) মাঝখানের অংশ ফাঁকা থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যত্রতত্র রাস্তা পার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।
কাগজে-কলমে এই মহাসড়কের অংশে ১৫টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের কথা থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ ব্রিজ এমন স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে যেখানে মানুষের চাপ খুবই কম। অথচ মাটিঢালি, চারমাথা বাস টার্মিনাল এলাকা এবং ধুনট মোড়ের মতো অত্যন্ত জনবহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ স্পটগুলোতে কোনো ফুটওভার ব্রিজ নেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক জায়গায় ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও মানুষ নিচের ডিভাইডারের ফাঁকা অংশ দিয়েই দৌড়ে রাস্তা পার হচ্ছে। এতে দূরপাল্লার দ্রুতগামী যানবাহনের সামনে পড়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
হাইওয়ে পুলিশের বগুড়া রিজিওনের পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ জানান, সড়কের কাটা অংশগুলো দিয়ে পথচারী ও ছোট যানবাহন পারাপার হওয়ার কারণেই মূলত দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে। তিনি বলেন, "বিষয়টি আমরা নিয়মিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি। দুর্ঘটনা রোধে আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে সবসময় প্রস্তুত।"
ব্যবহৃত না হওয়া ফুটওভার ব্রিজগুলো অপসারণের দাবি থাকলেও তা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সাসেক প্রকল্পের পরিচালক ড. ওয়ালেউর রহমান। তিনি বলেন, "সড়কের কাটা অংশগুলো বন্ধ করার চেষ্টা করা হলে স্থানীয়ভাবে বাধা আসে। বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"
সাধারণ পথচারী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়ক বিভাজনের কাটা অংশগুলো দ্রুত বন্ধ করার দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি জনগুরুত্বপূর্ণ ও দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে পরিকল্পিতভাবে নতুন ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। এলাকাবাসীর মতে, কেবল অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না, সেগুলোর সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করাও জরুরি।