
প্রায় দুই দশকের রাজনৈতিক বিরতি ও দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের পর আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশে গঠিত হতে যাচ্ছে নতুন সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন।
আজকের দিনটি বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে বেশ কিছু ব্যতিক্রমী ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে:
এমপিদের শপথ: সকাল ১০টা, সংসদ ভবনের শপথ কক্ষ। পরিচালনা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন।
মন্ত্রিসভার শপথ: বিকাল ৪টা, সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।
ব্যতিক্রম: প্রথাগতভাবে বঙ্গভবনে শপথ হলেও এবারই প্রথম সংসদ ভবনের উন্মুক্ত চত্বরে (দক্ষিণ প্লাজা) এই আয়োজন করা হচ্ছে।
শপথ গ্রহণের পর বিএনপি ও অন্যান্য দলগুলো তাদের সংসদীয় দলের বৈঠক করবে।
নেতা নির্বাচন: বিএনপি তাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করবে।
আমন্ত্রণ: সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে রাষ্ট্রপতি তাকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানাবেন।
মন্ত্রিসভা: প্রাথমিকভাবে ৩০ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা শপথ নিতে পারে। এতে জোটের শরিক হিসেবে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি এবং নূরুল হক নূরের নাম আলোচনায় রয়েছে।
সংসদ উপনেতা: এই পদের জন্য সালাহউদ্দিন আহমেদের নাম শোনা যাচ্ছে।
মোট আসন: ৩০০টি (২৯৯টিতে ভোট হয়েছে)।
গেজেট প্রকাশিত: ২৯৬ জন এমপির।
স্থগিত আসন: চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ (ঋণখেলাপি সংক্রান্ত আইনি জটিলতা)।
পুনঃনির্বাচন: শেরপুর-৩ (প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে)।
তারেক রহমানের আসন: তিনি ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে জয়ী হন। নিয়ম অনুযায়ী বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দিয়ে তিনি আজ ঢাকা-১৭ আসনের এমপি হিসেবে শপথ নেবেন।
তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ বিশ্ব রাজনীতিতে একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছে।
বাবা: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা)।
মা: বেগম খালেদা জিয়া (তিনবারের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী)।
ছেলে: তারেক রহমান (নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী)।
উপমহাদেশের রাজনীতিতে শ্রীলঙ্কার বন্দরনায়েক পরিবার এবং ভারতের নেহরু-গান্ধী পরিবারের পর এটিই দ্বিতীয় উদাহরণ যেখানে বাবা, মা এবং সন্তান রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকার প্রধান হিসেবে দেশ পরিচালনা করছেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের সামনে একগুচ্ছ কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যা তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন। প্রধান ফোকাস থাকবে:
অর্থনীতি: উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংক খাতের সংস্কার এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি।
সুশাসন: বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করা, দুর্নীতি দমন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার।
পররাষ্ট্র নীতি: বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সাথে ভারসাম্যের কূটনীতি রক্ষা করা।
সামাজিক খাত: শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়ন এবং বেকারত্ব দূরীকরণ।
এই শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা উপস্থিত থাকছেন। আমন্ত্রিতদের মধ্যে রয়েছেন:
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মুহাম্মদ মইজ্জু।
ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।
পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল।
শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও তুরস্কসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
বিশেষ নোট: বিদায়ী স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর পদত্যাগ এবং ডেপুটি স্পিকারের কারাবাসের কারণে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী সিইসি এমপিদের শপথ পরিচালনা করছেন, যা বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক বিশেষ পরিস্থিতি।