bogra times Add
ঢাকামঙ্গলবার , ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আদুরে ফসল পেঁয়াজ, শেরপুরে বীজ চাষে কৃষকের দ্বিগুণ লাভের স্বপ্ন

এনাম হকঃ-
ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ ৬:৫২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
প্রতিদিন ভোরে যখন কুয়াশা সরতে শুরু করে, তখনই পেঁয়াজের ক্ষেতে দেখা মেলে কৃষক আবু হাসানের। ফুলে ভরা গাছের মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দেন তিনি। কারণ, ঠিকমতো পরাগায়ন না হলে মিলবে না কাঙ্ক্ষিত বীজ। এই বাড়তি যত্নের কারণেই স্থানীয়রা নাম দিয়েছেন—‘আদুরে ফসল’।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের চক শাদী গ্রামে এবার প্রথমবারের মতো তাহেরপুরী জাতের পেঁয়াজের বীজকন্দ থেকে বীজ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস থেকে জাত সম্পর্কে জেনে অগ্রহায়ণ মাসে ২২ শতক জমিতে চাষ শুরু করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী চৈত্র মাসে বীজ উত্তোলন করবেন।

চাষের পদ্ধতিও আলাদা। আড়াই হাত করে বেড তৈরি করে প্রতিটি বেডে আটটি করে চারা রোপণ করতে হয়। চার মাস মেয়াদি এই ফসলে চার থেকে ছয়বার সেচ দিতে হয়। প্রতি শতকে আড়াই কেজি টিএসপি, ১ কেজি পটাশ, ১ কেজি ট্যাব সার, আধা কেজি ইউরিয়া এবং প্রায় ৮০ কেজি গোবরসার প্রয়োগ করতে হয়। ফসলটি সংবেদনশীল হওয়ায় পরিচর্যায় অবহেলার সুযোগ নেই।

এ পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা। বীজ উত্তোলন পর্যন্ত আরও প্রায় ৫ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে। নিজের শ্রম হিসাব করলে বিঘাপ্রতি খরচ প্রায় এক লাখ টাকা বলে জানান তিনি।

তবে হিসাব কষে আশাবাদী আবু হাসান। তার জানা মতে, শতকে পাঁচ থেকে আট কেজি পর্যন্ত বীজ পাওয়া যেতে পারে। সে হিসাবে ২২ শতক জমিতে প্রায় ৮০ কেজির মতো ফলন হতে পারে। সাধারণত প্রতি কেজি বীজ ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। চাহিদা বাড়লে দাম ৭ থেকে ৮ হাজার টাকাও হতে পারে। সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আয় বা দ্বিগুণ লাভের সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।

উপজেলা কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা বর্ণা খাতুন বলেন, এটি তাহেরপুরী পেঁয়াজের জাত। বীজের সংকট এড়াতে বীজ উৎপাদনে জোর দেওয়া হয়েছে। প্রণোদনার অংশ হিসেবে কৃষকদের বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। মাঠে ফুলের অবস্থা ভালো, ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জুলফিকার হায়দার জানান, উপজেলায় এই প্রথম পেঁয়াজের বীজকন্দ থেকে বীজ উৎপাদন করা হচ্ছে। কয়েকটি ইউনিয়নের ২০ জন কৃষকের মাঝে ১৬০ কেজি করে বীজকন্দ, সার, বালাইনাশক এবং বীজ সংরক্ষণ পাত্র দেওয়া হয়েছে। মাঠ পরিদর্শন করে তারা আশাবাদী হয়েছেন। শতকপ্রতি ২ থেকে ৫ কেজি বীজ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কৃষকরা লাভবান হবেন।

যত্ন আর পরিকল্পনা মিললে ফসলও দেয় ভরপুর সাড়া। শেরপুরের এই ক্ষেতে এখন তাই শুধু পেঁয়াজ নয়, ফুটে আছে বাড়তি আয়ের আশা।