
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় আলুচাষি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান মোমিনের বিরুদ্ধে। গত এক মাস ধরে এই চাঁদাবাজি চলছিল বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী কৃষকদের। এ ঘটনায় সোমবার রাতে শাজাহানপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক কৃষক।
অভিযোগকারী মেহেদী হাবীব আব্বাসী উপজেলার খরনা ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নিজেও একজন আলুচাষি।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাজাহানপুরের বিভিন্ন এলাকায় আলু তোলার মৌসুম শুরু হলে জমিতে আলু বস্তাবন্দি করা থেকে শুরু করে ট্রাকে লোড করার সময় হাজির হন স্বেচ্ছাসেবক দলের পরিচয় দেওয়া কয়েকজন যুবক। পরে ট্রাক আটকে বস্তাপ্রতি ২০ টাকা হারে চাঁদা দাবি করা হয়। সেই টাকা না দিলে আলুবাহী ট্রাক চলতে দেয়া হয় না বলেও অভিযোগ।
গত রোববার সন্ধ্যায় বীরগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক কৃষকের আলুবাহী ট্রাক আটকে চাঁদা দাবি করার সময় বিক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন চাঁদাবাজদের ধাওয়া করেন। এর একদিন পর সোমবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে থানায় অভিযোগ করেন কৃষক মেহেদী হাবীব।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মার্চ সন্ধ্যা সাতটার দিকে মেহেদী হাবীব তাঁর আলু হিমাগারে নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রাকে করে বের হন। রাজশাহী-বগুড়া মহাসড়কের বীরগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে আইয়ুব আলী, কামরুল হাসান মোমিন ও শহীদ হোসেনসহ কয়েকজন ট্রাকটির পথরোধ করেন। এ সময় তারা বস্তাপ্রতি ২০ টাকা করে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাঁকে তুলে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।
প্রত্যক্ষদর্শী তাজনুর ইসলাম ও জাহাঙ্গীর আলম আপেল জানান, চাঁদা না পেয়ে ওই কৃষককে অপহরণের চেষ্টা চালানো হয়। স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
শাজাহানপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘আমি কোথাও চাঁদাবাজি করিনি। আমার নামে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’
মঙ্গলবার বগুড়া প্রেস ক্লাবে ডেকে তিনি এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনও করেন।
শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘একজন কৃষক কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে আলু বোঝাই ট্রাক থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সরকার মুকুল বলেন, ‘আমাদের দলের কেউ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকলে এবং প্রমাণ পেলে তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অভিযোগ ওঠায় শাজাহানপুরের ওই দুই নেতার বিষয়ে দলীয়ভাবে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।