
ডেস্ক প্রতিবেদক | ঢাকা
সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামোর প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে বেতন কমিশন। আগামী ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে এই নতুন কাঠামো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে।
নতুন এই বেতনকাঠামোতে নিম্নস্তরের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী:
সর্বনিম্ন বেতন: বর্তমানের ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১৮,০০০ টাকা বা তার বেশি করার সুপারিশ করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ বেতন: বর্তমানের ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার উপরে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বেতন অনুপাত: সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ধরা হয়েছে ১:৮।
নতুন এই বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন সরকারের জন্য একটি বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ। এটি কার্যকর করতে অতিরিক্ত প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। তবে সরকার ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ২২ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা নতুন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
"নিম্নস্তরের কর্মচারীদের আর্থিক চাপ লাঘব এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই বেতন দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।"
সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ২১ সদস্যের এই বেতন কমিশন নির্ধারিত ছয় মাসের মধ্যেই প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে। আগামী ২১ জানুয়ারি অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এরপর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে পর্যালোচনার পর এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে।
মূলত দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে যে আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছিল, এই নতুন বেতনকাঠামো তা লাঘবে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।