bogra times Add
ঢাকাশনিবার , ২৮ মার্চ ২০২৬

ইরানের হামলায় সৌদি আরবের মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ১০ মার্কিন সেনা আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ-
মার্চ ২৮, ২০২৬ ১০:৩৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন বিমান ঘাঁটি ‘প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস’-এ ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত ১০ জন মার্কিন সার্ভিস সদস্য আহত হয়েছেন। স্যাটেলাইট চিত্রে ঘাঁটির ওপর দিয়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ইরানি বাহিনীর এই হামলায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে আহত ১০ জনের মধ্যে অন্তত দুজনের শরীরে স্প্লিন্টারের আঘাত রয়েছে, যা আশঙ্কাজনক নয় বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকিদের ওপর হামলার প্রভাব পড়লেও তারা বর্তমানে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

স্যাটেলাইট ছবিতে ধোঁয়ার কুণ্ডলী

হামলার পর প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, ঘাঁটির নির্দিষ্ট কিছু অংশ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে জানানো হয়েছে, হামলায় একটি মার্কিন রিফুয়েলার ট্যাঙ্কার বিমান (জ্বালানি বহনকারী বিমান) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ঘাঁটির যে অংশ থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে, সেটি মূলত বিমান পার্কিং ও জ্বালানি সংরক্ষণ এলাকা। হামলার প্রকৃতি ও লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানাতে পারেনি পেন্টাগন।

চলমান উত্তেজনার মধ্যেই হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলার ফলে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়বে। তবে এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বা সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা আসেনি।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি, উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌ-চলাচল এবং ইয়েমেনের পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছিল। সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টের অভিযোগ এনেছে ওয়াশিংটন।

প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস: মার্কিন বাহিনীর কৌশলগত ঘাঁটি

উল্লেখ্য, প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমান বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে শতাধিক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও বিমান মোতায়েন রয়েছে।

২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের আগ পর্যন্ত এই ঘাঁটি ব্যবহার করেছিল মার্কিন বাহিনী। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে আবারও এই ঘাঁটি সক্রিয় করে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় এই ঘাঁটিতে ফাইটার জেট, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

এখন পর্যন্ত এ হামলার বিষয়ে জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন ঘাঁটিতে সরাসরি ইরানের এ হামলা মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

ইরান এখন পর্যন্ত এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে আমেরিকান কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, হামলাটি ইরানের পক্ষ থেকে পরিচালিত হয়েছে।

সম্ভাব্য পরিস্থিতি

সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হামলায় মার্কিন সেনা সদস্যরা আহত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এখন কঠোর অবস্থানে যেতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট বা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিশোধমূলক হামলার ঘোষণা আসেনি। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা কূটনৈতিক ও সামরিকভাবে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে বিশ্বের।

এদিকে সৌদি আরবের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত এই হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা ঘটনাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানা গেছে।