
রাশিয়ান গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে, মাত্র ৭২ ঘণ্টার সংঘাতে ইসরাইলের অন্তত ৬ জন জেনারেল এবং ৩২ জন মোসাদ এজেন্ট প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা সিন বেটের ৭৮ জন অপারেটিভ এবং বিমানবাহিনীর ১৯৮ জন দক্ষ অফিসার নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ৪৬২ জন নিয়মিত সেনা এবং ৪২৩ জন রিজার্ভিস্টসহ মোট নিহতের সংখ্যা ১,২০০ ছাড়িয়ে গেছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ইসরাইলের পরমাণু কর্মসূচিতে—রাশিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১১ জন শীর্ষস্থানীয় পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ২০ বছরের আফগান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কোনো জেনারেল হারায়নি, কিন্তু মাত্র তিন দিনে ৬ জন জেনারেলের মৃত্যু ইসরাইলি কমান্ড স্ট্রাকচারের জন্য বিপর্যয়কর। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এখনো এই পরিসংখ্যান স্বীকার বা অস্বীকার করেনি।
এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা জানিয়েছে, অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। হামলার মূল লক্ষ্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-দাফরা বিমানঘাঁটি, যেখানে মার্কিন বাহিনীর আর্লি-ওয়ার্নিং রাডার সিস্টেম, এমকিউ-৯ ড্রোনের হ্যাঙ্গার এবং ইউ-২ নজরদারি বিমানের স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। একই সঙ্গে কুয়েতের আলী আল-সালেম ঘাঁটিতে ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করে জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। কাতারভিত্তিক আলজাজিরা এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া, ইরানি নৌবাহিনী মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরাইলের ‘সদত মিচা’ বিমানঘাঁটিতে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, রাশিয়া ইরানকে উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে, যাতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক বিমানের অবস্থান শনাক্ত করে নির্ভুল হামলা চালানো যায়। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই সহায়তা বেড়েছে। রাশিয়া সম্ভবত স্যাটেলাইট ইমেজ প্রদান করছে, যা ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে সহজ করছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জাতির উদ্দেশে এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘ইরান যুদ্ধের সূচনা করেনি, তবে নিজেদের ভূখণ্ড ও সম্মান রক্ষায় আমরা এক ইঞ্চিও পিছু হটব না।’ তিনি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে আত্মসমর্পণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ফক্স নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’ পাঠাচ্ছে। যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘এয়ারওয়ারস’ বলছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার গতি রেকর্ডমাত্রায়—প্রথম চার দিনে প্রায় ৪,০০০ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে, যা আইএসআইএস-বিরোধী অভিযানের ছয় মাসের সমান।
আগ্রাসনের প্রতিবাদে লন্ডনে ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা মার্কিন দূতাবাসের দিকে পদযাত্রা করে যুদ্ধবিরোধী স্লোগান দিয়েছেন।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, তাসনিম, দ্য গার্ডিয়ান, ওয়াশিংটন পোস্ট।