
রমজানের শেষ প্রান্তে এসে ঈদের কেনাকাটায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। যশোর শহরের চুড়িপট্টি, সিটি প্লাজা, জেস টাওয়ার, পুলিশ প্লাজা সংলগ্ন অস্থায়ী বাজারসহ বিভিন্ন বিপণীবিতান এখন মুখরিত হয়ে উঠেছে ক্রেতাদের পদচারণায়। বিশেষ করে নারী ও তরুণীদের কাছে কসমেটিকস পণ্যের চাহিদা লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। পোশাক ও জুতার পাশাপাশি সাজসজ্জার উপকরণ কিনতে বিভিন্ন দোকানে ভিড় করছেন তারা।
কোন এককালে ফেরিওয়ালার কাছ থেকে আলতা, চুড়ি, ফিতা কিংবা পাউডার কিনতে দেখা যেত কিশোরী ও তরুণীদের। গ্রামগঞ্জে হয়তো এখনও সেই ধারা টিকে থাকলেও নগর জীবনে ফেরিওয়ালার জায়গা দখল করেছে আধুনিক বিপণিবিতান, শপিংমল আর অনলাইন শপিং। কালের আবর্তে বদলেছে কেনাকাটার ধরন, কিন্তু অপরিবর্তিত থেকেছে উৎসবে নিজেকে সাজিয়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা।
শহরের চুড়িপট্টির কসমেটিকস পণ্যের দোকানগুলোতে মেহেদী, লিপস্টিক, নেইলপলিশ, মেকআপ ফাউন্ডেশন, কমপ্যাক্ট পাউডার, আইশ্যাডো, চুড়ি, আংটি, পায়েল, কানের দুলসহ নানা পণ্যে ঠাসা। বিভিন্ন দোকানে চোখ রাখলেই বোঝা যায়, কেমন চলছে পণ্যের চাহিদা ও দরদাম।
চুড়িপট্টির বিভিন্ন দোকানে মেহেদী বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। পাঞ্চক্লিপ ৪০ থেকে ১০০, লিপস্টিক ১০০ থেকে ৮০০, নেইলপলিশ ৫০ থেকে ১৫০, মেকআপ ফাউন্ডেশন ২০০ থেকে ৬৫০ টাকায়। আংটি ১০০ থেকে ২০০, ব্রেসলেট ১৫০ থেকে ২৫০, চুড়ি ১০০ থেকে ২০০, মেটালের চুড়ি সেট ২৫০ থেকে ৫০০ এবং পায়েল ১০০ থেকে ৩০০ টাকায় কিনতে পাওয়া যাচ্ছে।
জেস টাওয়ারের দোকানগুলোতে মেহেদী ২০ থেকে ২০০ টাকায় মিলছে। মেকআপ ফাউন্ডেশন ৩০০ থেকে ৯৫০, আইশ্যাডো ২০ থেকে ৯০০, কমপ্যাক্ট পাউডার ১৫০ থেকে ৮০০, লিপস্টিক ১০০ থেকে ৫৫০, নেইলপলিশ ৫০ থেকে ২৫০ টাকা। এছাড়া ব্রেসলেট ৩৫০ থেকে ৫০০, পায়েল ১৫০ থেকে ২০০, পাঞ্চক্লিপ ৫০ থেকে ২৫০ ও ইমিটেশনের আংটি ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সিটি প্লাজায় মেহেদী পাওয়া যাচ্ছে ৩০ থেকে ৮০ টাকায়। মেকআপ বক্স ৭০০ থেকে ২৩০০, লিপস্টিক ১৫০ থেকে ৫৫০, নেইলপলিশ ২০০ থেকে ১৫০, ইমিটেশনের আংটি ৭০ থেকে ৬৫০, পাঞ্চ ক্লিপ ও হেয়ারব্যান্ড ৫০ থেকে ২৫০ টাকা। কানের দুল ১২০ থেকে ৭০০, চুড়ি সেট ১৫০ থেকে ১৮০০ এবং নেকলেস সেট ৪০০ থেকে ৭০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চুড়ামনকাটি এলাকার উর্মি আক্তার বলেন, "এবার দামটা বেশি মনে হচ্ছে। বাজেটে মিললে অনেক কিছুই কিনবো।" এয়ারপোর্ট এলাকার ফারিয়া জাহান বলেন, "দাম বেশি, এমনকি মেহেদীর দামও কিছুটা বেড়েছে। তবু ঈদের সাজগোজে কসমেটিকস খুব জরুরি।" আর.এন রোডের সুমনা সামাদ বলেন, "সাজগোজের জিনিসপত্র দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়। সবই আছে, তবু নতুন কিনতে মন চায়।" বেজপাড়ার আলেয়া আক্তার বলেন, "সাজতে পছন্দ করি, তাই সারা বছরই কসমেটিকস দরকার হয়। আর ঈদ হলে তো কথাই নেই।"
চুড়িপট্টির কসমেটিকস প্লাসের বিক্রেতা আল আমিন বলেন, "এবার মন্দা যাচ্ছে। আজ ২০ রোজা পার হয়ে গেলেও বেচাকেনা এখনো জমে ওঠেনি। অন্যবার এ সময় সারাদিন আমাদের কোনো অবসরই থাকত না।" সাকিব স্টোরের সাব্বির হোসেন বলেন, "মেহেদীর বিক্রি হচ্ছে, অন্য আইটেম তেমন হচ্ছে না। সামনের দিনগুলোতে বেচাকেনা বাড়ার আশা করছি।"
জেস টাওয়ারের ফালগুনী পার্লার কালেকশানের স্বত্বাধিকারী জহিরুল ইসলাম বলেন, "দুই-তিন দিন হলো বেচাকেনা শুরু হয়েছে, এখনো জমে ওঠেনি।" সিটি প্লাজার শুভেচ্ছা কসমেটিকসের বিক্রেতা নাজমুল হোসেন বলেন, "অন্যবার ২০ রোজার পর থেকেই বেচাকেনা শুরু হতো, এবার টুকটাক বেচাকেনা হচ্ছে।"
সিটি প্লাজার স্টোনপ্লাসের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ শাহরিয়ার জানান, "মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের যশোরের অনেক প্রবাসী থাকেন। তাদের অনেকেই এবার টাকা পাঠাতে পারেননি। যে কারণে শুধু কসমেটিকস নয়, জামাকাপড়, জুতা-স্যান্ডেলসহ সব পণ্যের বেচাকেনাই এবার কম।"