ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বগুড়ার বাজারগুলোতে আতর, টুপি ও জায়নামাজ কেনার ধুম পড়েছে। নামাজ ও উৎসবের প্রস্তুতি হিসেবে এসব পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় দোকান ও ফুটপাতের বাজারে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঈদকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতারা।
শনিবার (২৯ মার্চ) বগুড়া ও শেরপুরের বিভিন্ন বাজারে দেশীয় পণ্যর পাশাপাশি বিদেশি পণ্যও ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে। বগুড়ার নিউমার্কেট, বড় মসজিদ এলাকা, সাতমাথা ও বিভিন্ন বিপণিবিতানে এসব পণ্য কিনতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। অপরদিকে শেরপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার শাহী মসজিদের সামনে, শেরশাহ নিউ মার্কেটের পিছুনের রাস্তায়, ধুনট রোড মোড় বাইতুননূর মসজিদ এলাকাসহ ছোট দোকান ও ফুটপাতে এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, সাদা কটন টুপি বিক্রি হচ্ছে ৫০– ১৫০ টাকা, কুরবানী টুপি ১০০–৩০০ টাকা, আরবি টুপি ৩০০–৭০০ টাকা, কোটা টুপি ২০০–৬০০ টাকা, মধ্যপ্রাচ্য ডিজাইনের টুপি ৫০০–১,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আতরের ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য রয়েছে— সালমা, জান্নাতুল ফেরদাউস, উদের মতো জনপ্রিয় সুগন্ধির দাম সাধারণত ১০০ থেকে ২০০ টাকা প্রতি তোলা, আরবি আতর ৫০০–১,০০০ টাকা (১৫ এমএল), রোজ গার্ডেন ৪০০–৮০০ টাকা (১০-১৫ এমএল),মুঘল আতর ২০০–৬০০ টাকা (১৫ এমএল), ইয়াসমিন আতর ২০০–৬০০ টাকা (১৫ এমএল) টাকা। তবে বিলাসবহুল আতরের দাম কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে জানান এক ব্যাবসায়ী।
এছাড়া, জায়নামাজের চাহিদাও এ সময়ে তুঙ্গে থাকে। সাধারণ ও আকর্ষণীয় ডিজাইনের জায়নামাজ ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে। ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সাধারণ মানের জায়নামাজের দাম প্রায় ২০০ থেকে শুরু হয় যা ৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। মাঝারি মানের জায়নামাজের দাম ৫০০ টাকা থেকে ১,০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে, আর বিলাসবহুল ডিজাইনের জায়নামাজের দাম ১,০০০ টাকা বা তারও বেশি।
বগুড়া শহরের বড় মসজিদ এলাকায় আতর, টুপি ও জায়নামাজ কিনতে আসা এক ক্রেতা, আব্দুল হান্নান জানান, “ঈদে এবার নিজের ও বাচ্চার জন্য টুপি আর রোজ গার্ডেন আতর কিনলাম। জায়নামাজটা বাড়ির জন্য নিচ্ছি। বাজারে জিনিসপত্রের দাম একটু বেশি মনে হলেও, ঈদের আনন্দের জন্য এটা মানিয়ে নিচ্ছি।
ঈদের এই উৎসবমুখর পরিবেশে বগুড়ার বাজারগুলো জমজমাট হয়ে উঠেছে। ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাক আর কেনাকাটার উন্মাদনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে শহরের প্রতিটি কোণ।