
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
ঈদুল ফিতর যত ঘনিয়ে আসছে, ততই প্রাণ ফিরে পাচ্ছে বগুড়ার শেরপুরের বাজারগুলো। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড়ে সরগরম হয়ে উঠেছে মার্কেটগুলো। নতুন পোশাক, জুতা, আতর, টুপি ও প্রসাধনী কিনতে পরিবার–পরিজন নিয়ে ছুটছেন মানুষ। বিক্রেতাদের ভাষ্য, গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রিও বেড়েছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) শেরশাহ নিউ মার্কেট, উত্তরাপ্লাজা, ডক্টরস কমপ্লেক্স, সৈয়দা কমপ্লেক্স, জাহানারা কমপ্লেক্স ও শেরপুর প্লাজা ঘুরে দেখা যায়, ঈদকে ঘিরে চলছে জমজমাট কেনাকাটা। দোকানগুলোতে নতুন নতুন পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা, আর ক্রেতারাও পছন্দের পোশাক খুঁজে নিচ্ছেন ব্যস্ত সময়ের মধ্যেই।
মেয়েদের পোশাকের দোকানগুলোতে চোখে পড়ছে সবচেয়ে বেশি ভিড়। থ্রি–পিসের দোকানে নানা রঙ ও ডিজাইনের পোশাক দেখে পছন্দ করছেন ক্রেতারা। বিক্রেতা মোহাম্মদ ফারুক জানান, এবারের ঈদে তাওয়াক্কাল ও নুডস থ্রি–পিসের চাহিদা বেশি। এসব থ্রি–পিস ৭ থেকে ৮ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া অন্যান্য থ্রি–পিস পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে।
তিনি বলেন, থ্রি–পিসের মধ্যে জর্জেট কাপড়ের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ভাইরাল ফার্সি থ্রি–পিস বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকায়। গারারা ও সারারা বিক্রি হচ্ছে ৪ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে। আফগান সিল্ক ও পাকিস্তানি জর্জেটেরও চাহিদা রয়েছে, যেগুলোর দাম ২ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে।
আরেক বিক্রেতা ওমর ফারুক বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর বিক্রি প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। এবছর বাজারে কোনো সিন্ডিকেটও নেই।
শিশুদের পোশাকের দোকানেও কম নয় ভিড়। বিক্রেতা আব্দুল জলিল ও মোহাম্মদ শামীম হোসেন জানান, শিশুদের ডিভাইডার ও পার্টি ড্রেসের চাহিদা বেশি।
ছেলেদের পোশাকের দোকানেও চলছে ভালো বেচাকেনা। ফ্যাশন সিটি দোকানের এক বিক্রেতা জানান, ছেলেদের জিন্স ও পাঞ্জাবির চাহিদা বেশি। পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। আর জিন্স বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে।
আরেক পাঞ্জাবি বিক্রেতা আসিফ বলেন, দেশি ও বিদেশি ব্র্যান্ডের পাঞ্জাবির চাহিদা প্রতিবারের মতো এবারও ভালো।
বাজারে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষও কেনাকাটা করছেন। অনেকেই রাস্তার পাশে বসা দোকানগুলো থেকে সাধ্য অনুযায়ী পোশাক কিনছেন।
ওড়না ও হিজাবের দোকানেও ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। বিক্রেতা মোহাম্মদ নেসার উদ্দিন বলেন, মেয়েদের মধ্যে তুর্কি ও মঞ্জুরী হিজাব বেশি বিক্রি হচ্ছে। তুর্কি হিজাবের দাম ৮০ টাকা থেকে শুরু। আর মঞ্জুরী হিজাব বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায়। প্রিন্টের ওড়না ২০০ থেকে ২৫০–৩০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
আতরের দোকানগুলোতেও ঈদ ঘিরে বেড়েছে কেনাকাটা। বিক্রেতারা জানান, হেমপার ব্ল্যাক, এসাসাল আরাবিয়া, ইউপি ও কুল ওয়াটারসহ বিভিন্ন ধরনের আতর ১০০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
রনি লেডিস টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী মাহবুব সরকার বলেন, ঈদকে সামনে রেখে টেইলার্সগুলোতেও কাজের চাপ বেড়েছে। ব্যস্ততা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পোশাক সরবরাহের চেষ্টা করছেন তাঁরা।
টুপি বিক্রেতা মানিক মিয়া বলেন, ঈদ উপলক্ষে টুপির চাহিদাও বেড়েছে। টুপি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০ টাকা পর্যন্ত।
এদিকে কসমেটিক্স, হিজাব ও ওড়নার দোকানেও নারীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। আর ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে জুতার বাজার। জুতার দোকানের বিক্রেতা শিপ্লব সরকার বলেন, বর্তমানে লেডিস জুতার চাহিদা বেশি। ঈদের দিন যত কাছে আসবে, পুরুষদের জুতার চাহিদাও বাড়বে। জুতা বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে। অনেক দোকানে ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন পাদুকা পণ্যে ছাড়ও দেওয়া হচ্ছে।
ঈদকে সামনে রেখে বাজারের এই ব্যস্ততায় খুশি বিক্রেতারা। আর ক্রেতাদের ভাষ্য, প্রিয়জনদের জন্য নতুন পোশাক কিনেই তারা ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে চান।