# উপজেলা গেটের পাশেই মাদকের কারবারের অভিযোগ

- Link: https://dailybogratimes.com/%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%97%e0%a7%87%e0%a6%9f%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%95%e0%a7%87/
- Published: 2026-09-21T19:29:00+06:00
- Author: বার্তা বিভাগ

[[

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুর পৌর শহরে উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের কাছেই
মাদক কেনাবেচার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা গেটের পূর্ব পাশে রামচন্দ্রপুরপাড়া এলাকার সুইপার
কলোনিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের কারবার চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। এতে
এলাকার পরিবেশ ও পাশের উপজেলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ জামে মসজিদের ধর্মীয় পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ
তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সুইপার কলোনির মৃত লালজী বাঁশফোঁড়ের ছেলে হৃদয় বাঁশফোঁড়, মাসুমের
ছেলে শাওন ও তাঁদের সহযোগীরা এই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাঁদের দাবি, আগে ওই এলাকায়
মূলত বাংলা মদের কারবার চললেও বর্তমানে গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক কেনাবেচা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মাদক বিক্রি ও সেবনকে কেন্দ্র করে সেখানে প্রায়ই বিশৃঙ্খলা
ও মারামারির ঘটনা ঘটে। জায়গাটি উপজেলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ জামে মসজিদের পাশেই হওয়ায় নামাজ
ও ধর্মীয় কাজে আসা মুসল্লিদেরও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় বলে তাঁদের অভিযোগ।

উপজেলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের বলেন, ‘‘উপজেলা
প্রশাসনের কাছেই দিন-রাত মাদক লেনদেন চলছে বলে আমরা অভিযোগ পাচ্ছি। মাদক নিয়ে সেখানে
প্রায়ই গণ্ডগোল হয়। বিষয়টি দ্রুত বন্ধ হওয়া দরকার।’’

স্থানীয় বাসিন্দা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসানুল মারুফ শিমুল বলেন, ‘‘
প্রশাসনের সামনেই এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। বিষয়টি
উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার জানিয়েছি। মাদকের কারণে এলাকার তরুণদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব
পড়ছে।’’

আরেক বাসিন্দা তৌহিদুজ্জামান পলাশ বলেন, ‘‘সুইপার কলোনিকে ঘিরে মাদক ব্যবসার অভিযোগ
দীর্ঘদিনের। প্রশাসনের এত কাছে এমন কর্মকাণ্ড চললে সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।’’

তবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হৃদয় বাঁশফোঁড়। তিনি বলেন,‘‘
আমাদের কলোনিতে প্রায় ১৬টি বাড়ি আছে। তাঁদের অনেকেই মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে আমি
জানি। আমি জাতিগতভাবে দেশীয় মদ পান করি ও বিক্রি করি। তবে অন্য কোনো মাদকের সঙ্গে আমি
জড়িত নই।’’

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, ‘‘ওই কলোনির বাসিন্দারা
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর হওয়ায় নিজেদের ব্যবহারের জন্য দেশীয় মদ তৈরি ও পান করেন। তাঁদের 
অনেকের দেশীয় মদের লাইসেন্সও রয়েছে। তবে তাঁরা নিজ সম্প্রদায়ের বাইরে মদ বিক্রি করেন
কি না, এ বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য নেই।’’

শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, ‘‘ওই এলাকায় মাদক
বিক্রির বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয়
ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
