
ডেস্ক প্রতিবেদক | পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে এখনো বাকি প্রায় চার সপ্তাহ। অথচ এরই মধ্যে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে শুরু হয়েছে অস্থিরতা। ইফতারের প্রধান অনুষঙ্গ ছোলা এবং রান্নার অপরিহার্য উপাদান চিনির দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও পাইকারি পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ ও সেগুনবাগিচাসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজান সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। তবে ভরা মৌসুম হওয়ায় দেশি পেঁয়াজ ও শীতকালীন সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
সপ্তাহ খানেক আগেও বাজারে প্রতি কেজি ছোলা ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হতো। কিন্তু শুক্রবার অধিকাংশ বাজারে তা ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার অজুহাত দিচ্ছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে, প্যাকেটজাত চিনির নির্ধারিত দাম ১০৫ টাকা হলেও বাজারে খোলা চিনি ১১০ টাকার নিচে মিলছে না। ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানকে সামনে রেখে বাড়তি মুনাফা লুটতেই ব্যবসায়ীরা এই আগাম দাম বৃদ্ধির কৌশল নিয়েছেন।
মুরগির বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় দাম নতুন করে না বাড়লেও তা উচ্চমূল্যেই স্থিতিশীল রয়েছে।
ব্রয়লার মুরগি: ১৭০-১৮৫ টাকা (কেজি)
সোনালি মুরগি: ২৯০-৩০০ টাকা (কেজি)
ডিম: প্রতি ডজন বাদামি ডিম ১১০-১১৫ টাকা এবং সাদা ডিম ১০০-১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রমজানের আগে নেতিবাচক খবরের মধ্যে স্বস্তি দিচ্ছে পেঁয়াজ ও শীতকালীন সবজি। বাজারে নতুন দেশি পেঁয়াজ এখন ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া সবজির বাজার দর নিম্নরূপ:
ফুলকপি: ৩৫-৪০ টাকা
নতুন আলু: ৩০-৩৫ টাকা
শিম: ৪০-৬০ টাকা
টমেটো: ৫০-৮০ টাকা
বাজার করতে আসা আল আমিন নামের এক বেসরকারি চাকুরিজীবী বলেন, "রমজান আসার আগেই ব্যবসায়ীরা উৎসব শুরু করে দিয়েছেন। সরবরাহ ঠিক থাকার পরও কেন ছোলার দাম কেজিতে ১০ টাকা বাড়বে? বাজার তদারকি না থাকলে সাধারণ মানুষের জন্য রোজা রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।"
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কঠোর মনিটরিং না থাকলে রমজান যত ঘনিয়ে আসবে, বাজার পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সাধারণ ক্রেতারা।