# এলজিইডির সড়ক নির্মাণে ফসলি জমি খনন, শেরপুরে দুর্ভোগে ২ শতাধিক কৃষক

- Link: https://dailybogratimes.com/%e0%a6%8f%e0%a6%b2%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%87%e0%a6%a1%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%95-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a3%e0%a7%87-%e0%a6%ab/
- Published: 2026-05-18T23:21:21+06:00
- Author: বার্তা বিভাগ

[[

**ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি :**

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় এলজিইডির একটি সড়ক নির্মাণকাজে রাস্তার দুই পাশের কৃষিজমি থেকে
গভীর করে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ২০০ কৃষকের আবাদি জমি ও বাড়ন্ত ফসল ক্ষতিগ্রস্ত
হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, ধান ও ভুট্টাখেত কেটে রাস্তার
কাজে মাটি নেওয়া হলেও তারা কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি।

স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন বৃহত্তর পাবনা ও বগুড়া জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের(
দ্বিতীয় পর্যায়) আওতায় শালফা বাজার থেকে খামারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ সড়ক পর্যন্ত ৩৯৪৫
মিটার ( প্রায় ৪ কিলোমিটার) কাঁচা রাস্তা পাকা করার কাজ চলছে। কাজটি বাস্তবায়ন করছে
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন
এ কাজ করছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সড়কের বড়বিলা থেকে বোয়ালমারী অংশে প্রায় ২ হাজার
১৪৫ মিটার এলাকায় রাস্তার দুই পাশ থেকে প্রায় ১০ ফুট গভীর করে মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণ
করা হয়েছে। এতে কৃষিজমিতে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও জমির পাশে খালের মতো 
গভীর খাদ সৃষ্টি হওয়ায় ধান কাটাসহ কৃষিকাজে দুর্ভোগ বেড়েছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকল্পটির জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র
কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে ২ কোটি ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৯১ টাকায় চুক্তি করা হয়। যার প্রাক্কলিত
মূল্য ছিল ২ কোটি ৩৬ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। কাজটি ২০২৫ সালের নভেম্বরে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের
সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

![এলজিইডির সড়ক নির্মাণে ফসলি জমি খনন, শেরপুরে দুর্ভোগে ২ শতাধিক কৃষক](https://dailybogratimes.
com/wp-content/uploads/2026/05/krishoker-kkhoti-2-bogura.jpg)

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হায়দার আলী বলেন, “মাটি অনেক গভীর করে কেটেছে। অনেক [সময় রাতের অ](http://এলজিইডির সড়ক নির্মাণে ফসলি জমি খনন, শেরপুরে দুর্ভোগে ২ শতাধিক কৃষক)
ন্ধকারে মাটি কাটায় অনেকে জানতেই পারেনি। সকালে এসে দেখে ধানসহ জমির মাটি কেটে নেওয়া
হয়েছে। এটা কৃষকদের জন্য বড় ক্ষতি। জমির সামনে খালের মতো হয়ে যাওয়ায় ধান তুলতে খুব 
কষ্ট হচ্ছে। আমরা জমি ভরাট ও ফসলের ক্ষতিপূরণ চাই।”

আরেক কৃষক আবুল কালাম বলেন, রাস্তা নির্মাণের সময় আমাদের কিছু না বলেই বড় বড় ভুট্টাগাছ
কেটে মাটি নেওয়া হয়েছে। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এর ক্ষতিপূরণ চাই।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সাহেব আলী বলেন, রাস্তার কাজের সময় আমরা আপত্তি জানিয়েছিলাম। কিন্তু
আমাদের কথা শোনা হয়নি। কৃষকদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। খনন করা গর্তগুলো ভরাট করে
দেওয়া উচিত।

কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, প্রায় ১০ ফুট গভীর করে মাটি কাটা হয়েছে। এখন এই গর্ত ভরাট করতে
৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আব্দুল মজিদ বলেন, এলজিইডির রাস্তা নির্মাণে সাধারণত
রাস্তার পাশের জমি থেকে মাটি নিয়েই কাজ করা হয়। রাস্তার লে-আউটের সময় স্থানীয় কৃষক 
ও চেয়ারম্যানদের সম্মতি নিয়েই মাটি কাটা হয়েছে। প্রায় ২ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার সড়কে মাটি
কাটার জন্য ৪ লাখ ৭৩ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল। আরও বলেন, এলজিইডির স্থানীয় সড়কে অধিগ্রহণের
সুযোগ নেই। বাইরে থেকে মাটি এনে রাস্তা নির্মাণেরও সুযোগ নেই।
