
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ বগুড়ার শেরপুরে অনুষ্ঠিত হলো ‘ক্রিকেট ট্যালেন্ট হান্ট ২০২৬’। শতাধিক তরুণ ক্রিকেটার অংশ নিয়ে নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন করেন। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করেন। নির্বাচিত প্রতিভাদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের আশ্বাস দিয়েছেন আয়োজক সংগঠক আসিফ সিরাজ রব্বানী।
বগুড়ার শেরপুরে লুকিয়ে থাকা প্রতিভাবান তরুণ ক্রিকেটারদের খুঁজে বের করতে ব্যতিক্রমী আয়োজন ‘ক্রিকেট ট্যালেন্ট হান্ট ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল থেকে শেরপুর সরকারি ডি জে মডেল হাই স্কুল মাঠে গড়ে ওঠে এই ক্রীড়া উৎসব।
শেরপুর ও ধুনট অঞ্চলের খেলোয়াড়দের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ‘একসাথে গড়ি সমৃদ্ধ শেরপুর-ধুনট’ সামাজিক উদ্যোগের ব্যানারে এই প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচির আয়োজন করেন বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আসিফ সিরাজ রব্বানী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমন্ত্রী ব্যক্তিরা, শিক্ষক ও ক্রীড়ামোদীরা।
অনূর্ধ্ব-১৬ বয়সসীমার শতাধিক তরুণ ক্রিকেটার ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিনটি বিভাগে নিজেদের সেরা দক্ষতা তুলে ধরেন। মাঠজুড়ে ছিল প্রতিযোগিতা ও উৎসবের আমেজ। বাছাই প্রক্রিয়ায় মূল্যায়নের দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও জাতীয় ক্রিকেট দলের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার খালেদ মাহমুদ সুজন।
প্রতিভা অন্বেষণের সময় সুজন তরুণ ক্রিকেটারদের গতি, টেকনিক ও মাঠের বুদ্ধি যাচাই করেন। তিনি বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। শুধু সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। উদ্যোগটি প্রশংসার দাবিদার। এখান থেকেই ভবিষ্যতে জাতীয় দলের হয়ে খেলা ক্রিকেটার বেরিয়ে আসবে।’
আয়োজক আসিফ সিরাজ রব্বানী জানান, ট্যালেন্ট হান্টে নির্বাচিতরা রাজশাহীর বাংলা ট্র্যাক ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে দুই বছর মেয়াদি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। এই প্রশিক্ষণ, আবাসন ও খাবারের সব খরচ বহন করবে ‘একসাথে গড়ি সমৃদ্ধ শেরপুর-ধুনট’ উদ্যোগ।
প্রতিভা অন্বেষণের পাশাপাশি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার দর্শনও উঠে আসে আয়োজকের কথায়। আসিফ সিরাজ রব্বানী বলেন, ‘অনেকেই মাদক নির্মূলের কথা বলেন, কিন্তু সেটা হয় না প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অভাবে। শিশু-কিশোরদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। আমাদের এই ট্যালেন্ট হান্ট সেই পথেই একটি বড় উদ্যোগ।’
স্থানীয় তরুণ ক্রিকেটারদের প্রতিক্রিয়ায় লক্ষ্যণীয়, তারা এই আয়োজনকে নতুন দিগন্ত হিসেবে দেখছেন। অংশগ্রহণকারী কয়েকজন ক্রিকেটার আসিফ সিরাজ রব্বানীর নজর কেড়ে বলেন, ‘প্রতি বছর যদি এ ধরনের বাছাই প্রক্রিয়া হয়, তাহলে আমরা আগাম প্রস্তুতি নিতে পারব। তাহলে গ্রামের গণ্ডি পেরিয়ে অনেক ভালো ক্রিকেটার জাতীয় পর্যায়ে জায়গা করে নেবে।’
ক্রীড়াবিশ্লেষক ও স্থানীয় সুশীল সমাজের অনেকে মনে করছেন, এই উদ্যোগ শেরপুরের ক্রীড়াঙ্গনে গুছানো প্রশিক্ষণ ও মেধা অন্বেষণের সংস্কৃতি তৈরি করবে। শুধু স্বীকৃতিই নয়, বিনামূল্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের সুযোগ শিশু-কিশোরদের মাঝে নতুন স্বপ্ন ও উদ্দীপনার জন্ম দিয়েছে।