# কুয়াশা কেটে উঁকি দিচ্ছে রোদ, শার্শায় বোরো রোপণে ব্যস্ত কৃষক

- Link: https://dailybogratimes.com/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%9f%e0%a7%87-%e0%a6%89%e0%a6%81%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a7%87/
- Published: 2026-01-29T21:48:45+06:00
- Author: বার্তা বিভাগ

[[

**মনির হোসেন, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি** মাঘের হাড়কাঁপানো শীত আর কুয়াশার দাপট কাটিয়ে
রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ার দেখা মিলতেই যশোরের শার্শা উপজেলায় বোরো ধান রোপণের ধুম পড়েছে।
গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রকৃতির মেজাজ বদলে যাওয়ায় উপজেলার মাঠজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। কৃষকেরা
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন কাদা-জলে বোরোর চারা রোপণে। কৃষি বিভাগ
জানিয়েছে, এবার শার্শায় বিগত তিন বছরের রেকর্ড ভেঙে বোরো চাষের নতুন সম্ভাবনা তৈরি 
হয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েক দিনের মিষ্টি রোদে কৃষকদের
মাঝে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। কেউ বীজতলা থেকে চারা তুলছেন, কেউ পাওয়ার টিলার দিয়ে
জমি প্রস্তুত করছেন, আবার কেউ দল বেঁধে জমিতে চারা রোপণ করছেন। পুটখালী ইউনিয়নের বারোপোতা
গ্রামের কৃষক জুলফিকার আলী বলেন, “এবার আমি ৩৫ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করছি। মৌসুমের শুরুতে
প্রচণ্ড শীত থাকায় ভয় পেয়েছিলাম, কিন্তু এখন আবহাওয়া খুব ভালো। চারার কোনো সংকট নেই।”

ডিহি ইউনিয়নের আবু বকর সিদ্দিকী ও ৭৫ বছর ব[য়সী প্রবীণ কৃষক বাদশা শেখ](http://কুয়াশা কেটে উঁকি দিচ্ছে রোদ, শার্শায় বোরো রোপণে ব্যস্ত কৃষক)
জানান, এখন আর আগের মতো গরু-লাঙলে চাষ দিতে হয় না। আধুনিক যন্ত্রপাতিতে সময় ও খরচ দুই-
ই কমেছে। অধিকাংশ কৃষকই এবার ‘রডমিনিকেট’ জাতের দিকে ঝুঁকছেন। কৃষক সাগর শেখ বলেন, “
রডমিনিকেট ধানের ভাত মজাদার, দামও ভালো পাওয়া যায়। এবার ৭৫ বিঘা জমিতে এই ধান লাগিয়েছি।”

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত সার, কীটনাশক কিংবা বিদ্যুৎচালিত
সেচ পাম্প নিয়ে কোনো ভোগান্তি পোহাতে হয়নি। যদি শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া এমন অনুকূলে থাকে
এবং বিদ্যুৎ ও সারের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, তবে বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলায়
বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ হাজার ৪৩০ হেক্টর। এর বিপরীতে বীজতলা
তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ১৭৫ দশমিক ৫ হেক্টর। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ২ হাজার
৬৩৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি হয়েছে।

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোশারফ হোসেন বলেন, “শার্শায় এবার ব্রি 
ধান-৫০, ৬৩, ৮৮, ১০০, ১০২, ১০৪ সহ বিনাধান-২৫ ও স্থানীয় জনপ্রিয় জাতগুলোর চাষ বেশি 
হচ্ছে। এ বছর ৬০ শতাংশই আদর্শ বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ
দিচ্ছি এবং আশা করছি এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।”

---

**এক নজরে শার্শার বোরো আবাদ:**

 * **আবাদের লক্ষ্যমাত্রা:** ২৩,৪৩০ হেক্টর
 * **বীজতলা তৈরি:** ২,৬৩৫ হেক্টর (লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ)
 * **জনপ্রিয় জাত:** ব্রি ধান, বিনাধান ও রডমিনিকেট।
 * **বর্তমান অবস্থা:** ১৪০ হেক্টর জমিতে রোপণ সম্পন্ন, বাকি কাজ দ্রুত চলছে।
