কোন প্রণোদনা নেই, তবুও শেরপুরে বেড়েছে ভুট্টার আবাদ
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: সরকারি কোনো প্রণোদনা না থাকলেও বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে ভুট্টার আবাদ বেড়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। কম খরচে কম সময়ে বেশি লাভের আশায় কৃষকেরা ধান চাষ কমিয়ে ভুট্টার দিকে ঝুঁকছেন। মাঠে এখন ভুট্টা কাটার ব্যস্ততা, কোথাও চলছে মাড়াইয়ের প্রস্তুতি। তবে সারের সংকট, ঝড়ের ক্ষতি ও বাজারদরের অনিশ্চয়তায় উদ্বেগও রয়েছে চাষিদের মধ্যে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৫০০ হেক্টর। এর বিপরীতে চাষ হয়েছে ৩ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৭০৭ মেট্রিক টন। গত মৌসুমে ৩ হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমিতে চাষ করে উৎপাদন হয়েছিল ৪০ হাজার ৬৬৩ মেট্রিক টন। তবে এবারে আগের তুলনায় প্রায় ৮৮৫ হেক্টর জমিতে চাষ কম হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
উপজেলার সালফা এলাকার কৃষক আব্দুল বাছেদ বলেন, “বীজ রোপণ থেকে কাটা-মাড়াই পর্যন্ত এবার বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে ১৪ থেকে ১৬ হাজার টাকা। গত বছর ৩৭ মণ পেয়েছিলাম। এ বছর ৪০ থেকে ৪৫ মণ হতে পারে বলে আশা করছি।”
একই এলাকার কৃষক শাহেদ বলেন, “সারের সংকটে ঠিকমতো জমিতে সার দিতে পারিনি। ঝড়েও গাছের ক্ষতি হয়েছে। ফলে ফলন কম হতে পারে।”
কৃষক রেজাউল করিম বলেন, “মৌসুমের শুরুতে সার পাই না, পরে বেশি দামে কিনতে হয়। আবার ভুট্টা তোলার সময় আমদানির কারণে দাম কমে যায়। এখন ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা মণ। ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা হলে কিছুটা লাভ থাকত।”
আরেক কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “গত বছর ৪০-৪২ মণ পেয়েছিলাম। এবার মোচা ছোট লাগছে। বাতাসে অনেক গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সার ও বীজের দামও বেশি। লাইনে দাঁড়িয়ে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় সার কিনতে হয়েছে।”
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জুলফিকার হায়দার বলেন, “চলতি বছর কোনো প্রণোদনা না থাকলেও কৃষকেরা নিজের উদ্যোগেই বেশি জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। একই সময়ে চাষ করায় রোগবালাই ও পোকার আক্রমণও কম হয়েছে।”
কৃষকেরা জানান, ভুট্টা চাষে জমি প্রস্তুতের সময় প্রয়োজনীয় সার মিশিয়ে নেওয়া হয়। পরে বিঘাপ্রতি প্রায় ৩ কেজি বীজ রোপণ করা হয়। এক মাস পর ইউরিয়া ও ডিএপি প্রয়োগ করে সেচ দেওয়া হয়। সাধারণত ৯০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যেই ফসল কাটা যায় এবং এ ফসলে সেচের প্রয়োজনও তুলনামূলক কম।
সব মিলিয়ে, প্রণোদনা ছাড়াই শেরপুরে ভুট্টা চাষে আগ্রহ বাড়ছে। তবে সারের প্রাপ্যতা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে কৃষকের লাভের হিসাব অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।