
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তৎপরতা। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সামনে এসেছেন শালফা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের প্রভাষক ইনসান আলী। জনসেবার লক্ষ্য নিয়ে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন।
খানপুর ইউনিয়নের শালফা গ্রামের বাসিন্দা আলহাজ্ব বাহেজ আলী প্রামানিকের ছেলে ইনসান আলী দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র ও যুবরাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। পাশাপাশি শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় এলাকায় তার পরিচিতি রয়েছে।
ইনসান আলীর রাজনৈতিক পথচলা শুরু ১৯৯৭ সালে খানপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে। এরপর তিনি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ সালে বগুড়া আজিজুল হক কলেজের শহীদ আখতার আলী মুন হলের সাধারণ সম্পাদক, ২০০৯ সালে সরকারি আজিজুল হক কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ২০১০ সালে বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সমাজসেবা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে ২০১৬ সালে বগুড়া জেলা যুবদলের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং ২০২৪ সালে বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান। দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা তাকে স্থানীয় রাজনীতিতে একটি অবস্থান তৈরি করে দিয়েছে বলে মনে করছেন তার সমর্থকরা।
পেশাগত জীবনে তিনি একজন শিক্ষক। শালফা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজে প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয়রা জানান, শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয়।
এলাকায় মাদকবিরোধী সচেতনতা, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি মানুষের কাছে ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন বলে দাবি করেন তার সমর্থকরা।
শালফা গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “ইনসান আলী আমাদের গ্রামের সন্তান। তিনি সব সময় মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকেন। শিক্ষিত ও তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে তাকে চেয়ারম্যান পদে দেখতে চাই।”
আরেক গ্রামবাসীর ভাষ্য, “আমরা চাই এমন একজন জনপ্রতিনিধি, যিনি উন্নয়নের পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করবেন। ইনসান আলী সেই যোগ্যতা রাখেন।”
সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে ইনসান আলী বলেন, নির্বাচিত হলে খানপুর ইউনিয়নকে আধুনিক, মাদকমুক্ত ও সেবামুখী ইউনিয়নে রূপান্তর করতে কাজ করবেন। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি সহায়তা, যুবদের কর্মসংস্থান এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, শিগগিরই ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ শুরু করবেন এবং একটি জনসভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
খানপুর ইউনিয়নে ইতোমধ্যে তার সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন ও স্থানীয় সমীকরণ মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি কতটা এগোতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে জনসেবার লক্ষ্য সামনে রেখে তার মাঠে নামার প্রস্তুতি এলাকায় নতুন করে নির্বাচনী আবহ তৈরি করেছে।