# খোলা হাঁড়ি নয়, বোতলে রস সংগ্রহ, নিপা ঠেকাতে সতর্ক গাছিরা

- Link: https://dailybogratimes.com/%e0%a6%96%e0%a7%8b%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%a4%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%b0%e0%a6%b8-%e0%a6%b8/
- Published: 2026-01-13T15:44:58+06:00
- Author: বার্তা বিভাগ

[[

**প্রতিবেদক এনাম হকঃ **

  শীত এলেই গ্রামবাংলার ভোরে যে দৃশ্যটি চোখে পড়ে,[ তা হলো খেজুর গাছে](https://dailybogratimes.com/)
হাঁড়ি ঝোলানো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই দৃশ্যেও এসেছে পরিবর্তন। নিপা ভাইরাসের ঝুঁকি
কমাতে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের ঘোলাগাড়ী গ্রামে এখন মাটির হাঁড়ির
বদলে প্লাস্টিক বোতলে নেট দিয়ে ঢেকে খেজুরের রস সংগ্রহ করা হচ্ছে।

খেজুরের রস শুধু একটি পানীয় নয়, এটি গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি সংস্কৃতি।
এই রস দিয়ে তৈরি হয় ফিরনি, পায়েস। আবার রস জ্বাল দিয়ে বানানো গুড় দিয়ে শীতের দিনে ঘরে
ঘরে তৈরি হয় ভাঁপা পিঠা, চিতই, খই, চিড়া ও মুড়ি। তবে খোলা হাঁড়িতে রস সংগ্রহের সময় 
বাদুড় ও বিভিন্ন কীটপতঙ্গ প্রবেশ করায় রস দূষিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা নিপা ভাইরাস 
ছড়ানোর অন্যতম কারণ।

এই ঝুঁকি মাথায় রেখে এখন অনেক গাছি নিরাপদ পদ্ধতিতে রস সংগ্রহে ঝুঁকছেন। ঘোলাগাড়ী গ্রামের
গাছি বাদশা বলেন, তিনি প্রতি বছর নিয়ম করে গাছ প্রস্তুত করেন। বিকেলে গাছ লাগিয়ে পরদিন
ভোরে রস সংগ্রহ করেন। সেই রস দিয়ে লালি বানিয়ে বিক্রি করেন, আবার কেউ কেউ সরাসরি কিনে
নিয়ে যান। এতে তার বাড়তি আয় হয় বছরে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা।
 তিনি জানান, “আগে
মাটির হাঁড়ি ব্যবহার করতাম। এখন প্লাস্টিক বোতল লাগাই, এতে বাদুড় বা পোকামাকড় ঢোকার
ভয় কম।”

একই গ্রামের গাছি মিঠু বলেন, তিনি মূলত পরিবারের জন্যই রস জাল দিয়ে গুড় ও লালি বানান
অনেকে বিক্রিও করেন। গ্রামের অনেক পরিবার নিজেদের খাওয়ার জন্যও খেজুরের গুড় তৈরি করেন,
যা শীতের খাবারে আলাদা স্বাদ যোগ করে। মিঠুর বক্তব্যের সুরেই কথা বলেন মো. আজম।

![খোলা হাঁড়ি নয়, বোতলে রস সংগ্রহ, নিপা ঠেকাতে সতর্ক গাছিরা](https://dailybogratimes.
com/wp-content/uploads/2026/01/rosh-300x284.jpg)

খেজুরের রস সাধারণত অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পাওয়া যায়। শীত যত বেশি,
রসের পরিমাণ ও মান তত ভালো হয়। বিশেষ করে পৌষ ও মাঘ মাসে সবচেয়ে বেশি রস সংগ্রহ করা
যায়। তবে তাপমাত্রা বাড়লে রস কমে যায় এবং স্বাদও বদলে যেতে শুরু করে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাঁচা খেজুরের রস পান করা ঝুঁকিপূর্ণ। ডা. গোলাম হামিম
জানান, দূষিত কাঁচা রসের মাধ্যমে নিপা ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে। এতে জ্বর,
মাথাব্যথা, বমি, শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহ পর্যন্ত হতে পারে, যা 
অনেক সময় প্রাণঘাতী হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজিদ হাসান সিদ্দিক বলেন, শীতকালে
মানুষের খেজুরের রস খাওয়ার আগ্রহ বাড়ে। কিন্তু নিপা ভাইরাসের ঝুঁকির কারণে কাঁচা খেজুরের
রস না খাওয়ার জন্য সবাইকে সচেতন করা হচ্ছে।

ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকেও নজর দিচ্ছেন শেরপুরের গাছিরা।
প্লাস্টিক বোতলে রস সংগ্রহের এই উদ্যোগ হয়তো পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়, তবে সচেতনতার 
পথে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।
