
ডেস্ক প্রতিবেদক:
বাঙালির চিরন্তন গৌরবের দিন ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ ফিরে এসেছে আবার। রাত ১২টা পেরুতেই কালরাত্রি পেরিয়ে জেগে ওঠে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। হাজারো মানুষের কণ্ঠে মুখরিত চত্বর। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’—এই করুণ সুরের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মহাযজ্ঞ।
রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতি অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
এরপর পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি শহীদ মিনারের মূল বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় তিনি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন।
পরে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরাও ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা নিবেদনের পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষও শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। রাতভর আর সকালজুড়ে খালি পায়ে হেঁটে, ফুল হাতে মানুষ ছুটে আসেন অমর একুশের এই প্রাঙ্গণে।
উল্লেখ্য: মূল খবরে উল্লিখিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশ এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানোর বিষয়টি বর্তমান প্রেক্ষাপটে সঠিক নয় এবং সংবাদের নিরপেক্ষতা রক্ষার্থে তা সংশোধন করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি সর্বশেষ ঘটমান বাস্তবতা অনুসারে পরিমার্জিত।