# গাজায় গোপন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের, দাবি ফাঁস হওয়া নথিতে

- Link: https://dailybogratimes.com/%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a6%aa%e0%a6%a8-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%98%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%9f%e0%a6%bf/
- Published: 2026-02-20T12:18:02+06:00
- Author: বার্তা বিভাগ

[[

**আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ- ২০ ফেব্রুয়ারি:** গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠনের লক্ষ্যে
গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদের আড়ালে বিশাল এক সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের গোপন
পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের হাতে আসা গোপন
নথির বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে।

ফাঁস হওয়া নথি অনুযায়ী, দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতল এলাকায় প্রায় ৩৫০ একর জমির
ওপর ধাপে ধাপে এই সামরিক আউটপোস্ট গড়ে তোলা হবে। এটি মূলত ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা
বাহিনীর’ (আইএসএফ) প্রধান অপারেশনাল সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হবে, যেখানে প্রায় ৫ হাজার
সেনাসদস্যের থাকার ব্যবস্থা থাকবে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সভাপতিত্বে গঠিত এই শান্তি পরিষদই
মূলত গাজা শাসন ও এই ঘাঁটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে।

**সামরিক স্থাপনার নকশা**

নথিতে বর্ণিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরো সামরিক ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়ায় ঘেরা থাকবে
এবং নিরাপত্তার জন্য ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার বসানো হবে। ঘাঁটির ভেতরে ছোট অস্ত্র
প্রশিক্ষণ রেঞ্জ, সামরিক সরঞ্জামের গুদাম এবং উন্নত বায়ু চলাচল সুবিধাযুক্ত বিশেষ 
বাঙ্কার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে মাটির নিচে হামাসের 
সুড়ঙ্গ শনাক্ত করতে বিশেষ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ চালানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

**আন্তর্জাতিক সমর্থন ও বিতর্ক**

এদিকে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে শান্তি পরিষদের প্রথম [বৈঠকে ১০ বিলিয়ন ডলা](http://গাজায় গোপন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের, দাবি ফাঁস হওয়া নথিতে)
র অনুদান ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকে ইন্দোনেশিয়া ৮ 
হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে এবং কাতার ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো
বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তবে ফিলিস্তিনিদের কোনো প্রতিনিধি ছাড়াই অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইউরোপের প্রভাবশালী দেশগুলো
অংশ নেয়নি। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, শান্তি পরিষদ মূলত একটি আইনি আবরণ, যার মাধ্যমে
যুক্তরাষ্ট্র গাজায় নিজের আধিপত্য নিশ্চিত করতে চাইছে।

গাজায় এই ঘাঁটি নির্মাণের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে মাটির নিচে থাকা
হামাসের সুড়ঙ্গ পথ এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা হাজার হাজার মরদেহ। নথিতে
ঠিকাদারদের মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে সুড়ঙ্গ শনাক্ত করার এবং মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া
গেলে বিশেষ প্রটোকল অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার
মতে, প্রায় ১০ হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারে।

গাজার এই নির্ধারিত জমিতে বর্তমানে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ থাকলেও সেখানে সামরিক ঘাঁটি
নির্মাণের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত
আইনজীবী ডায়ানা বুট্টু একে ‘দখলদারিত্ব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের
পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাজায় কোনো মার্কিন সেনা সরাসরি মোতায়েন করা হবে না। তবে
ফাঁস হওয়া নথির বিষয়ে তারা বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
