
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
শীতের সূচনায় প্রকৃতি সেজেছে নতুন রূপে। বাংলাদেশের বৃহত্তম জলাভূমি চলনবিলজুড়ে শুরু হয়েছে পরিযায়ী পাখির আগমন। সুদূর সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, হিমালয়াঞ্চল ও ইউরোপের শীতপ্রধান অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ঝাঁকেঝাঁকে পাখি আসছে চলনবিলে। তাদের কলরবে মুখরিত হয়ে উঠেছে বিলের জলাশয় ও আকাশ।
ভোরের কুয়াশা কাটেনি তখনই চলনবিলের কুড়ালিয়া, ডিকশি, হালতি বিল এবং নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনার বিস্তীর্ণ জলজ এলাকায় শুরু হয় পাখিদের জলকেলি। বালিহাঁস, সরালি, ল্যাঞ্জাহাঁস, খুন্তে হাঁস, পান্তামুখী, রাজহাঁস (গ্রেলেগ গুজ) ও রাঙামুড়িসহ নানা প্রজাতির পাখি দেখা যায় খাবারের সন্ধানে জলে ডুবসাঁতার দিতে। সূর্যোদয়ের লাল আভায় পাখিদের ঝাঁক ওড়ার দৃশ্য মুগ্ধ করে প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীদের।

সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুনর অর রশিদ খান হাসান বলেন, “চলনবিল শীতের অতিথি পাখিদের জন্য এক আদর্শ আবাসস্থল। শীতে পানি কমে যাওয়ায় এখানে প্রচুর ছোট মাছ, শামুক ও জলজ পোকা মেলে, যা পাখিদের প্রিয় খাবার। এটাই তাদের টেনে আনে।” তিনি উল্লেখ করেন, এই পাখিরা বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায়ও ভূমিকা রাখে।
তবে এই প্রাকৃতিক দৃশ্যের পাশেই চলছে অন্ধকার চক্রের । স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছু অসাধু শিকারি রাতের আঁধারে বিষটোপ ছিটিয়ে কিংবা ফাঁদ পেতে পরিযায়ী পাখি শিকার করছে। অনেকদিন সকালে বিষক্রিয়ায় মরা পাখি ভেসে উঠছে বিলের ধারে। এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি চলনবিলের জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।

স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও টহল বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে চলনবিল থেকে একদিন এই পরিযায়ী পাখিরা হারিয়ে যেতে পারে, মুগ্ধতার এই উৎসব কেবল স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।
প্রকৃতির এই অমূল্য উপহারকে টিকিয়ে রাখতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।