
ডেস্ক প্রতিবেদক | ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সংগঠিত রাজনৈতিক প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকারীদের সব ধরনের ফৌজদারি দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। রোববার (২৫ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত একটি গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।
এর মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আর থাকল না।
প্রকাশিত গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটানোর মাধ্যমে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে। এই ঐতিহাসিক আন্দোলন পরবর্তীকালে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়। এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের কার্যক্রমকে সুরক্ষা দিতেই এই বিশেষ অধ্যাদেশ কার্যকর করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই দায়মুক্তি অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। সেই সময় জানানো হয়েছিল, পরবর্তী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে এটি গেজেট আকারে প্রকাশ হয়ে আইনে পরিণত হবে। সেই ধারাবাহিকতায় রোববার চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হলো।
বৈঠক পরবর্তী এক ব্রিফিংয়ে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার ছিল। আন্দোলনের সময় আত্মরক্ষার্থে বা স্বৈরাচারী শাসন প্রতিরোধের লক্ষ্যে গৃহীত কোনো পদক্ষেপের জন্য কাউকেই যেন হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেটি নিশ্চিত করাই এই অধ্যাদেশের লক্ষ্য।
এই অধ্যাদেশ জারির ফলে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের সঙ্গে জড়িত রাজনৈতিক ও প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডের কোনো বিষয় নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো আদালতে প্রশ্ন তোলা বা ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যাবে না।