
দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত মজুদ ও আমদানি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব এবং অপারেশন উইংয়ের প্রধান মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে ডিজেলের কোনো সংকট নেই এবং মার্চ মাসেও সংকট হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
শনিবার (৭ অক্টোবর) তিনি এ তথ্য জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে মাসে ৩ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে ১ লাখ টনের বেশি ডিজেল মজুদ আছে। এর বাইরে আরও ২ লাখ ৮০ হাজার টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানি চূড়ান্ত হয়েছে। তবে কৌশলগত কারণে কোন দেশ থেকে কী দরে এসব তেল কেনা হচ্ছে, তা জানাননি তিনি।
বর্তমান সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, '২ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেলের মধ্যে কিছু তেল ইতিমধ্যে আসা শুরু হয়েছে। কিছু সমুদ্রে জাহাজে রয়েছে এবং কিছু জাহাজীকরণ অবস্থায় আছে। ফলে মার্চ মাসে বাংলাদেশে ডিজেলের সংকট হওয়ার কোনো কারণ নেই।'
তিনি আরও জানান, আরও চারটি উৎস থেকে ১ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। এখন সরবরাহকারীদের সঙ্গে দলিলাদি লেনদেনের পর্যায় চলছে। ফলে ডিজেল নিয়ে সংকটের কোনো কারণ নেই এবং ক্রেতারা বাড়তি ডিজেল না কিনলে পাম্পগুলোতেও সংকট তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই।
বাজারে বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে জ্বালানি বিভাগ মনে করছে, কিছু গ্রাহক অযথা পেট্রোল পাম্পে ভিড় করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন। তাদের এই আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটা (প্যানিক বায়িং) বন্ধ হলেই সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে সামঞ্জস্য ফিরে আসবে।
অপরিশোধিত জ্বালানি ছাড়াও এলএনজি ও গ্যাস পরিস্থিতি নিয়েও আশ্বস্ত করেছে সরকার। কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানি নিশ্চিত করায় আপাতত গ্যাস সংকট হওয়ার কোনো কারণ নেই। এছাড়া নভেম্বর পর্যন্ত সারের মজুদ থাকায় সরকার সার কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। ফলে গ্যাসের সরবরাহও স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করছে জ্বালানি বিভাগ।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতির বিষয়ে জানা গেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ৫০ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো ফার্নেস অয়েলের মজুদ রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা নেই বলেও জানানো হয়।