
ডেস্ক প্রতিবেদক:
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানি ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার কঠোর সাশ্রয় নীতি গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে দেশের সার ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা হয়েছে, যার ফলে চট্টগ্রামের দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে এবং সারা দেশে লোডশেডিং বেড়েছে।
পেট্রোবাংলার নির্দেশে বুধবার থেকে দেশের প্রধান দুই সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) এর উৎপাদন স্থগিত রাখা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ খাতে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় গতকাল সারাদেশে বিভিন্ন এলাকায় তীব্র লোডশেডিং পরিস্থিতি তৈরি হয়।
বিদ্যুৎ খাতে বর্তমানে দৈনিক ৮২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা আগের তুলনায় ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট কম। অন্যদিকে সার খাতে পূর্বের ১৭০ মিলিয়ন ঘনফটের বিপরীতে এখন ১৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড ছাড়া দেশের অন্যান্য সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তিনি জানান, সিইউএফএল-এর পূর্ণ উৎপাদনে দৈনিক প্রায় ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হলেও এখন তা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, যেখানে কারখানাটি দৈনিক ১১ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করত। একইভাবে কাফকোতে গ্যাস না থাকায় ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন স্থগিত রয়েছে।
সংকট মোকাবিলায় এলএনজি ক্রয়ের উদ্যোগ
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার চেষ্টা করছে। গত ৪ মার্চ ডাকা বিডিংয়ে এ সংক্রান্ত সাড়া পাওয়া গেছে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক জানান, যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় গ্যাস আমদানি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতেই রেশনিং শুরু হয়েছে। তবে স্পট মার্কেট থেকে কেনা এলএনজি পৌঁছালে সংকট কেটে যাবে।
তিনি বলেন, "বিদ্যুৎ ও সারে রেশনিং করার জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে বিডিংয়ে সাড়া পেয়েছি। আশা করছি, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা এই দুই কার্গো এলএনজি পেলে রেশনিংয়ের প্রয়োজন হবে না। আগামী ১৫ ও ১৮ মার্চের এলএনজি নিয়ে আমাদের যে শঙ্কা ছিল, তা কেটে যাবে।"
পরিকল্পনা অনুযায়ী, মার্চ মাসে ৯টি, এপ্রিলে ১১টি এবং মে মাসে ১১ কার্গো এলএনজি আমদানির কথা রয়েছে। এর মধ্যে ১৯ কার্গো হরমুজ প্রণালি হয়ে আসার কথা থাকায় তা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, এক কার্গোতে প্রায় ৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস থাকে, যা দেশের দৈনিক চাহিদার চেয়েও কম। দেশীয় উৎস থেকে বর্তমানে প্রায় ১,৭১৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে, যার সঙ্গে এলএনজি থেকে আরও ৮০০ থেকে ১,০০০ মিলিয়ন ঘনফুট যুক্ত হয়ে মোট সরবরাহ ২,৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটের উপরে ওঠে। স্পট মার্কেট থেকে নতুন এলএনজি এলে বিদ্যুৎ ও সার খাতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে পারবে বলে আশা করছে পেট্রোবাংলা।