
রমজান শুরু হতে না হতেই নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ফলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। দিন যত যাচ্ছে, ইফতারের প্রধান উপকরণ খেজুর, কমলা, আপেলসহ বিভিন্ন ফলের দাম ততই বাড়ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
গতকাল রোববার (৮ মার্চ) ডিমলা উপজেলার সদর বাজার, শুটিবাড়ি বাজার, ডালিয়া নতুন বাজার, চাপানীহাট, খগারহাট, কলোনিহাট, খোড়ারডাঙ্গারহাট ও একতার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রমজানের শুরুতেই বেশিরভাগ ফলের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বাজারে কমলার কেজি এখন ৩২০ টাকা, মাল্টা ৩০০ টাকা, সাদা আঙুর ৪০০ টাকা, আপেল ৩৬০ টাকা, নাশপাতি ৪০০ টাকা, আনার ৪৮০ টাকা এবং কালো আঙুর ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পেয়ারা ১২০ টাকা, পেঁপে ১৫০ টাকা এবং বড়ই ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
খেজুরের বাজারেও দামের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। মেজহুল খেজুর বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকায়। মরিয়ম খেজুর ৯০০ টাকা এবং বিভিন্ন ধরনের তিউনিসিয়ান খেজুর ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শুটিবাড়ি বাজারের খেজুর বিক্রেতা মজনু জানান, পাইকারি বাজারে দাম বাড়লে তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। জেলার সৈয়দপুরের বৃহত্তম খুচরা ও পাইকারি খেজুর বিক্রেতা সততা এন্টারপ্রাইজের মালিক করিম মিয়া বলেন, 'খেজুরের সরবরাহ হঠাৎ কমে গেছে। পোর্ট থেকে পণ্য ডেলিভারি না হওয়ায় কিছু জাতের খেজুরের দাম বেড়ে গেছে।'
চাপানীহাটের কলা বিক্রেতা হযরত আলী জানান, ফলন কম হওয়ায় কলার দাম বেড়েছে। বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উপজেলার গয়াবাড়ি ইউনিয়নের শুটিবাড়ি বাজারে খেজুর কিনতে আসা ক্রেতা আহসান হাবীব বলেন, 'রমজানের শুরুতেই খেজুরের দাম বেশি ছিল। কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের কষ্ট হচ্ছে।'
এদিকে কলার বাজারেও দাম বেশি দেখা গেছে। দেশি কলা ডজনপ্রতি ১২০ টাকা, সবরি কলা ১৮০ টাকা এবং সাগর কলা ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে নতুন তরমুজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা এবং প্রতিটি তরমুজ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নাউতারা বাজারের রফিক ফুডের মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, মৌসুম এলে তরমুজের দাম কমে যাবে। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে কিছু বিদেশি ফলের দাম আরও বাড়তে পারে।
ডালিয়া নতুন বাজারের ফল বিক্রেতা সৌরভ হোসেন জানান, তার দোকানে ফুজি আপেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ান আপেল ৩২০ টাকা এবং বিদেশি গ্রিন আপেল ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আকারভেদে কমলার দামেও পার্থক্য রয়েছে। ছোট কমলা ৩০০ টাকা, বড় কমলা ৩৫০ টাকা এবং দেশি কমলা ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে একই বাজারে দেশি মুরগি, মাছ ও মাংসের দামও চড়া। দেশি মুরগি প্রকারভেদে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আইড় মাছ ১২০০ টাকা, বৈরালি মাছ ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা এবং বোয়াল ও শৈল মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান বলেন, 'রমজানকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে, সে জন্য বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। কেউ অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'