
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সাম্প্রতিক বক্তব্য বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে চীনের সম্পর্কে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। এটি মূলত চীনের সার্বভৌমত্ব ও অ-হস্তক্ষেপ নীতিরই প্রতিফলন, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কে চীনের দীর্ঘদিনের অবস্থান।
বাংলাদেশের নতুন সরকারের 'সবার আগে বাংলাদেশ' নীতিতে সমর্থন জানিয়ে চীন এই অঞ্চলে তার কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও গভীর করতে আগ্রহী বলে প্রতীয়মান হয়। তিস্তা প্রকল্প প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চীন প্রস্তুত রয়েছে এবং এখন এটি বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তিস্তার পানি বণ্টন একটি জটিল অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক ইস্যু, তাই এতে চীনের আগ্রহ ও আশাবাদ ভবিষ্যতে এই প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা বাড়ার ইঙ্গিত দিতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের আমন্ত্রণ এবং জিয়াউর রহমানের সময় থেকে সম্পর্কের ভিত্তির কথা উল্লেখ করে চীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার প্রতি সম্মান ও গুরুত্বারোপ করেছে। এটি ঢাকা-বেইজিং কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই ইস্যুতে চীনের গঠনমূলক ভূমিকা অব্যাহত থাকতে পারে।
সার্বিকভাবে, রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য চীনের কাছে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাব্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।