
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ- | শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া ও পাঞ্জাব প্রদেশজুড়ে শুরু হওয়া নজিরবিহীন তুষারপাত ও ভারী বৃষ্টিপাতে জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পর্যটন নগরী মুরি এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার পাহাড়ি এলাকাগুলোতে কয়েক ফুট বরফ জমে প্রধান সড়কগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কয়েক শ পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা আটকা পড়েছেন বলে খবর দিয়েছে সংবাদমাধ্যম ডন।
পাকিস্তান আবহাওয়া অধিদপ্তর (PMD) জানিয়েছে, মুরিতে ইতিমধ্যেই ১৪ ইঞ্চি তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নতুন করে কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন শহরটিতে পর্যটক প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
খাইবার পাখতুনখোয়ার তিরাহ উপত্যকাসহ দুর্গম এলাকাগুলোতে কয়েক শ বাস্তুচ্যুত পরিবার বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২ তাদের ১০০ জনের বেশি কর্মী এবং ২৩টি বিশেষ যানবাহন নিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে।
উদ্ধার তৎপরতা: শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত অন্তত ৫০টি যানবাহন ও ১০০ জন মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ত্রাণ সহায়তা: আক্রান্তদের মাঝে কম্বল ও শিশুদের শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: তুষারপাতের কারণে কারাকোরাম হাইওয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
আজাদ কাশ্মীরের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নীলম উপত্যকায় প্রায় তিন ফুট তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অতিরিক্ত বরফের চাপে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে কয়েক ডজন গ্রাম।
এমনকি দীর্ঘ বছর পর কাশ্মীরের রাজধানী মুজাফফরাবাদেও হালকা তুষারপাত হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে একই সাথে বিস্ময় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বৃষ্টির ফলে পাহাড় ধসের আশঙ্কা থাকায় প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (PDMA) স্থানীয়দের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস: আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন যে, এই চরম বৈরী আবহাওয়া আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। বর্তমানে বন্ধ হয়ে যাওয়া রাস্তাগুলো পুনরায় চালু করতে সেনাবাহিনী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মীরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।