# তেহরানে সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

- Link: https://dailybogratimes.com/%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b9%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d/
- Published: 2026-01-13T17:01:14+06:00
- Author: বার্তা বিভাগ

[[

**আন্তর্জাতিক ডেস্ক | মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬**

ইরানে চলমান নজিরবিহীন [সরকারবিরোধী বিক্ষোভ](https://dailybogratimes.com/) দমনে তেহরানের
রক্তক্ষয়ী অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে 
যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে
সম্ভাব্য হামলার বেশ কিছু কৌশলগত বিকল্প সম্পর্কে অবহিত করেছে। আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে
এই বহুমুখী আক্রমণের পরিকল্পনাটি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলে খবর
প্রকাশ করেছে বিবিসি।

পেন্টাগনের সামরিক পরিকল্পনা
 মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, পেন্টাগনের 
সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের তালিকায় রয়েছে:

দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: ইরানের কৌশলগত সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে নিখুঁত
হামলার পরিকল্পনা।

বিমান শক্তি প্রয়োগ: ইরানের নেতৃত্ব কাঠামো এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিকল করে
দিতে উন্নত যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ব্যবহারের প্রস্তাব।

সাইবার ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ: সরাসরি সামরিক হামলার পাশাপাশি বড় ধরনের সাইবার অভিযান
এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির মাধ্যমে ইরানি প্রশাসনের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার কৌশল।

আজ মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে জাতীয় নিরাপত্তা দলের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এসব বিকল্প নিয়ে
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

ট্রাম্পের ‘২৫ শতাংশ’ শুল্ক হুংকার
 প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যেই ইরানের 
বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, যেসব দেশ ইরানের সাথে
বাণিজ্য চালিয়ে যাবে, মার্কিন বাজারে প্রবেশে তাদের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ
করা হবে। ট্রাম্পের এই ‘চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয়’ নীতি তেহরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার
চীন, ভারত, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে 
ফেলবে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, “আলোচনার চেয়েও বড় পদক্ষেপ নেওয়ার
সময় সম্ভবত চলে এসেছে।”

পরিস্থিতির ভয়াবহতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
 মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী,
গত তিন সপ্তাহে ইরানে বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৬৪০ জন ছাড়িয়েছে (অন্যান্য সূত্রে ৫৩৮-
৬০০ জনের কথা বলা হচ্ছে)। আটক করা হয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে। এই পরিস্থিতিতে 
যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত ইরানের শাহজাদা রেজা পাহলভী বিক্ষোভকারীদের রক্ষায় ট্রাম্পকে
দ্রুত হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এই অস্থিরতার জন্য সরাসরি ‘বিদেশি
ষড়যন্ত্র’ ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন। তবে মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে
যে, বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা বন্ধ না হলে তারা সামরিক শক্তি ব্যবহারে কোনো দ্বিধা
করবে না।

উত্তেজনার কেন্দ্রে তেহরান
 বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান
এবং পেন্টাগনের সামরিক প্রস্তুতি মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন ও ভয়াবহ যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশেষ করে ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন অভিযানের সফলতার পর ইরানের ক্ষেত্রেও ট্রাম্প
একই ধরনের ‘কুইক অ্যাকশন’ নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
