
নির্বাচন কমিশন (ইসি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামে গেজেট প্রকাশ করেছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এই গেজেট প্রকাশ করা হয়।
গেজেটে বলা হয়, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২’ এর অনুচ্ছেদ ৩৯ এর দফা (৪) অনুসারে বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকা থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নাম, পিতা/স্বামীর নাম, মাতার নাম ও ঠিকানা তালিকাভুক্ত করে প্রকাশ করা হয়েছে।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও আইনি জটিলতা ও প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ২৯৭টি আসনের ফলাফল চূড়ান্ত হয়। বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে আসন বণ্টন দাঁড়িয়েছে এইভাবে:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি): ২০৯টি আসন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ৬৮টি আসন
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): ৬টি আসন
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস: ২টি আসন
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: ১টি আসন
গণঅধিকার পরিষদ: ১টি আসন
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি): ১টি আসন
গণসংহতি আন্দোলন: ১টি আসন
খেলাফত মজলিস: ১টি আসন
স্বতন্ত্র প্রার্থী: ৭টি আসন
একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে অংশগ্রহণ ও ফলাফলের তথ্যও কমিশন জানিয়েছে। গণভোটে ‘পরিবর্তনের’ পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি এবং বিপক্ষে ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি। ভোটের হার ছিল ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ।
মোট ভোটার: ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন।
পুরুষ: ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন
নারী: ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন
তৃতীয় লিঙ্গ: ১ হাজার ২৩২ জন
সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার: ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
উল্লেখ্য, এবারই প্রথম প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
মোট দুই হাজারের মতো প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে আড়াই শতাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং বাকিরা ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের হয়ে লড়েছেন। প্রার্থী দেওয়ার তালিকায় শীর্ষে ছিল বিএনপি। দলটির ২৯১ জন প্রার্থী ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নেন।