# থানায় গাড়ির সংকট: ৬ হাজার ৬০৯ কোটি টাকায় ৫ হাজার ৮৩০ নতুন যানবাহন কেনার উদ্যোগ

- Link: https://dailybogratimes.com/%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%95%e0%a6%9f-%e0%a7%ac-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be/
- Published: 2026-10-24T08:17:12+06:00
- Author: বার্তা বিভাগ

[[

**নিউজ ডেস্ক–**

দেশের ৬৩৯টি থানার জন্য মোট যানবাহন আছে মাত্র ১ হাজার ২৩৭টি, অর্থাৎ গড়ে প্রতি থানায়
দুটিরও কম। এর মধ্যে ৬৪ শতাংশ গাড়ির বয়স ১০ বছরের বেশি। ফলে টহল, অপরাধ দমন ও জরুরি
পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই সংকট কাটাতে সরকার ৫ হাজার ৮৩০টি 
নতুন গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করেছে। এতে খরচ ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৬০৯ কোটি ৬ লাখ ৬৬ হাজার
টাকা। অপারেশনাল ও বিশেষায়িত যানবাহন কেনার দুটি আলাদা প্রকল্প আগামী রোববার একনেক
সভায় অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। দুটি প্রকল্পের পুরো টাকাই আসবে সরকারি কোষাগার থেকে।

পুলিশ সদর দপ্তরের অ্যাডিশনাল আইজিপি (ডেভেলপমেন্ট) সরদার নূরুল আমিন যুগান্তরকে জানান,
কিছু থানায় গাড়ি আছে মাত্র একটি। যেসব গাড়ি আছে, তার বেশিরভাগই ৮-৯ বছরের পুরোনো।
গাড়ির অভাবে ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছানো যায় না, কাজেও বিঘ্ন ঘটে। তিনি বলেন, নতুন প্রকল্পে
অপারেশনাল গাড়ি কেনা হলে পুলিশের সক্ষমতা বাড়বে এবং অপরাধ দমনে সুবিধা হবে। থানার
চাহিদা অনুযায়ী গাড়ি বণ্টন করা হবে। নতুন গাড়ি এলেও পুরোনোগুলো বাদ যাবে না; মেরামত
করে সেগুলোও চালানো হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পুলিশ সদস্য জানান, গণ-অভ্যুত্থানের সময় অনেক থানায়
গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘাটতি এখনো পূরণ হয়নি, তাই নতুন গাড়ি কেনা ছাড়া
উপায় নেই।

**অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্প**

প্রস্তাবিত প্রকল্প দুটির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পে ৪ 
হাজার ৮২৯টি গাড়ি কেনা হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩২৮ কোটি ৯২ লাখ ৪৭ হাজার
টাকা, প্রতিটি গাড়ির দাম পড়বে ৮৬ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। এসব গাড়ি ব্যবহার হবে টহল, 
অপরাধ প্রতিরোধ, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, মাদক উদ্ধার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নির্বাচনসহ
নানা কাজে।

**বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্প**

বিশেষায়িত প্রকল্পে কেনা হবে ১ হাজার ১টি গাড়ি। এর প্রস্তাবিত ব্যয় ২ হাজার ২৮০ 
কোটি ১৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা, গড়ে প্রতিটি গাড়ির দাম ২ কোটি ২২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। 
দুর্গম এলাকায় অভিযান ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই প্রকল্পে থাকবে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের
গাড়ি, অল-টেরেইন ভেহিকল (এটিভি), মোবাইল কমান্ড সেন্টার ও ক্রাইম সিন ভ্যান।

**বিশেষায়িত প্রকল্পের ব্যয়ের বিভাজন:**

যানবাহন কেনা: ২ হাজার ২২৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা

৯১০ জনের গাড়ি চালনা ও মেকানিক প্রশিক্ষণ: ১ কোটি ১৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা

৭৮৩টি গাড়ির নিবন্ধন ফি: ৫ কোটি ৮৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকা

৫০ জন মেকানিকের বিশেষ প্রশিক্ষণ: ৩৯ লাখ ৮৩ হাজার টাকা

 

দুটি প্রকল্পই ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে[ ২০২৯ সালে](https://dailybogratimes.com/%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%95%e0%a6%9f-%e0%a7%ac-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be/)
র জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

**অনুমোদন প্রক্রিয়া**

বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে অননুমোদিত নতুন প্রকল্প হিসেবে
আছে। গত ১৫ অক্টোবর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় এটি নিয়ে আলোচনা হয়, 
এরপর একনেকের বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা হয়। পরিকল্পনা কমিশন বলছে, প্রকল্প বাস্তবায়িত
হলে জনগণ দ্রুত সেবা পাবে, পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়বে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির
উন্নতি হবে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু নতুন গাড়ি কিনলেই লক্ষ্য পূরণ হবে না। কোন থানায় কতটি 
গাড়ি দরকার, কোন ইউনিটে কী ধরনের যানবাহন লাগবে এবং কেনার পর সেগুলো সচল রাখার ব্যবস্থা
কতটা কার্যকর হবে, এসবের ওপরই নির্ভর করবে এই বিপুল সরকারি বিনিয়োগের প্রকৃত সুফল।

চাইলে আমি এটি আরও সংক্ষিপ্ত করে দিতে পারি, অথবা ভিডিও স্ক্রিপ্টের আকারে সাজিয়ে 
দিতে পারি।
