
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিতর্কিত ‘দায়মুক্তি’ আইনের আওতায় সম্পাদিত সকল বিনিয়োগ ও ক্রয় চুক্তি বাতিল এবং এ খাতের দুর্নীতিবাজ বা ‘জ্বালানি অপরাধীদের’ বিচারের দাবিতে সিরাজগঞ্জে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে শহরের প্রাণকেন্দ্রে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সিরাজগঞ্জ জেলা কমিটির উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
ঘণ্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন ক্যাব সিরাজগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি শওকত আলী। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু জাফর খান ও সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম শফির সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন জেলার বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ সচেতন নাগরিকবৃন্দ। অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে বিদ্যুৎ খাতের অনিয়মের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা সরকারের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন:
চুক্তি বাতিল: দায়মুক্তি আইনের অধীনে করা সকল জনস্বার্থবিরোধী চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
ব্যবসা থেকে সরে আসা: সরকার যৌথ মালিকানায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবসায় যুক্ত হবে না এবং সরকারি কোনো কোম্পানির শেয়ার ব্যক্তি খাতে হস্তান্তর করা যাবে না।
মুনাফামুক্ত সেবা: ‘কস্ট প্লাস’ পদ্ধতির বদলে কেবল ‘কস্ট বেসিসে’ মুনাফামুক্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
জ্বালানি মিশ্রণ: স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনায় তরল জ্বালানির (তেল) ব্যবহার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, বিগত ১৫ বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ অর্থ তসরুপ ও আত্মসাৎ হয়েছে। এই অর্থের সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করে দায়ীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি জানান তারা। আদায়কৃত অর্থ দিয়ে ‘এনার্জি প্রাইস স্ট্যাবিলাইজড ফান্ড’ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আইন-২০০৩ এর মৌলিক সংস্কারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এবং এই খাতে বিনিয়োগকারীদের জন্য বৈষম্যহীন পরিবেশ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়ন না করা হয়, তবে ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।