1. dailybogratimes@gmail.com : admin :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মরিচের বাম্পার ফলন হলেও হাসি নেই কৃষকের - Daily Bogra Times
শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:৩৭ অপরাহ্ন

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মরিচের বাম্পার ফলন হলেও হাসি নেই কৃষকের

কংকনা রায়, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময়ঃ শনিবার, ২২ মার্চ, ২০২৫
  • ১৪ Time View
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মরিচের বাম্পার ফলন হলেও হাসি নেই কৃষকের
print news

কংকনা রায়, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :  দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় এ বছর মরিচের বাম্পার ফলন হলেও কাঙ্খিত দাম না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। গত বছর আশানুরূপ লাভের মুখ দেখলেও এ বছর লোকসান গুণতে হবে এমন আশঙ্কা কৃষকদের।

উপজেলার পৌর এলাকাসহ ছয়টি ইউনিয়ন থাকলেও শিবনগর, বেতদীঘি, আলাদিপুর, ও দৌলতপুর ইউনিয়নে মরিচের চাষ বেশি হয়। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। তবে বাজারমূল্য কম থাকায় উৎপাদন ব্যয় উঠা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলায় মোট ১ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে শাক-সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২ হাজার ৮৭৫ মেট্রিক টন শাক-সবজি। এরমধ্যে ১১০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২১৫ মেট্রিক টন। মৌসুমের শুরু থেকেই আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মরিচের ফলন ভালো হয়েছে মরিচের উৎপাদন ভালো হয়েছে। এ বছর উপজেলায় বিন্দু, বিজলী, নাগা ফায়ার, সিন্দিসহ হাইব্রিড জাতের মরিচ বেশি চাষ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে উপজেলা কৃষি দপ্তর থেকে মরিচ চাষিদের সার্বিক পরামর্শসহ সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

সরেজমিনে উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এলাকার বেশিভাগ জমিতেই অন্যান্য শাক-সবজির সঙ্গে বিভিন্ন জাতের মরিচ আবাদ করা হয়েছে।

গোয়ালপাড়া গ্রামের মৃত দেবেন্দ্র নাথ রায়ের ছেলে মরিচ চাষি রেবতি মোহন রায় বলেন, ১৫ শতক জমিতে হাইব্রিড জাতের ৭০০ মরিচ গাছের চারা লাগিয়েছেন। এতে গাছের চারা থেকে শুরু করে সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে সাড়ে ৭ হাজার টাকা। এতে ১৫ থেকে ১৭ মণ মরিচ উৎপাদন হবে। বর্তমানে হাটবাজারে পাইকারি বাজারে প্রতিমণ মরিচ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গাছ ভর্তি মরিচ ধরলেও দাম কমে যাওয়ায় গাছের মরিচ তুলছেন না তিনি। গাছের মরিচ তুলে হাটে বিক্রি করে মজুর ও পরিবহন খরচও উঠবে না। গাছের মরিচ না তোলার জন্য অনেক গাছের মচির ইতোমধ্যে পাকতে শুরু করেছে।

একই গ্রামের মরিচ চাষি সজিব রায় সৈকত বলেন, গত বছরের লাভের অংক হিসাব করে এবছর ২৫ শতক জমিতে বিন্দু জাতের ১ হাজার গাছ রোপণ করে মরিচ চাষ করে লোকসানে পড়েছেন। ক্ষেতের মরিচ তুলতে মজুর আর মরিচ বাজারে নিতে পরিবহন খরচ সব মিলিয়ে যা খরচ হয়, সে অনুযায়ী দাম একদম কম। মরিচের ফলন ভালো হলেও বাজার মূল্য না থাকায় এবার মরিচ চাষে লাভ হবে না। উৎপাদন খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়বে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার বলেন, মরিচ ও শাক-সবজি চাষের জন্য কৃষকদের যথারীতি উৎসাহ ও সহযোগিতা প্রদানসহ কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচযায় এবার মরিচের আবাদে কোনো প্রকার রোগ বালাই আক্রমণ নেই। ফলনও ভালো হয়েছে। তবে উৎপাদন ভালো হওয়ায় তেমন লাভ না হলেও মরিচ চাষে কোনো কৃষক লোকসানে পড়বেন না।

শেয়ার করুন

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © Daily Bogra Times/2025
Theme Customized BY LatestNews