
আন্তর্জাতিক ডেস্ক |
ভারতের ভারত মন্ডপমে আয়োজিত ‘নিউ দিল্লি ওয়ার্ল্ড বুক ফেয়ার ২০২৬’-এর শেষ দিনে এক নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক ঘটনা ঘটেছে। বিনামূল্যে বই পাওয়ার আশায় দর্শকদের বই ছিনিয়ে নেওয়া ও বিশৃঙ্খলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে নেটিজেনদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন দিল্লির বইপ্রেমীরা।
গত ১৮ জানুয়ারি ছিল মেলার শেষ দিন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মেলার শেষ দিকে কিছু স্টল (বিশেষ করে 'ব্লুবেরি' নামক একটি স্টল) অবিক্রীত বইগুলো বিনামূল্যে বিতরণের ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পরপরই সেখানে উপস্থিত শত শত মানুষ উন্মুখ হয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যেই সুশৃঙ্খল পরিবেশ ভেঙে পড়ে এবং এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, স্টলের উঁচু শেলফ থেকে দর্শকরা মরিয়া হয়ে বই টেনে নামাচ্ছেন এবং একে অপরের হাত থেকে বই ছিনিয়ে নিচ্ছেন। ভিড়ের মধ্যে অনেকে ওপর থেকে বই ছুড়ে মারছেন এবং নিচে থাকা সঙ্গীরা সেগুলো ব্যাগে ভরছেন। বইয়ের প্রতি অনুরাগ নয়, বরং 'বিনামূল্যে পাওয়ার লোভ' থেকে সৃষ্ট এই কাড়াকাড়িকে অনেক ব্যবহারকারী "প্রাণীসুলভ আচরণ" হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
এই ঘটনাটি নাগরিক দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওর নিচে নেটিজেনদের মন্তব্য ছিল কঠোর ও বিদ্রূপাত্মক:
নাগরিক দায়িত্বহীনতা: একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “তথাকথিত শিক্ষিত ও মেধাবী মানুষরা যখনই বিনামূল্যে কিছু পাওয়ার সুযোগ পায়, তখনই নিজেদের সভ্যতা ও নাগরিক দায়িত্ব ভুলে যায়।”
জ্ঞানের অবমাননা: অন্য এক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, “বই কেনা হয় জ্ঞান অর্জনের জন্য। কিন্তু এই আচরণ জ্ঞানের প্রকৃত উদ্দেশ্যকেই কলঙ্কিত করেছে। তারা বই পড়তে নয়, বরং শুধু সংগ্রহ করতে আগ্রহী।”
শিক্ষিত সমাজের নৈতিক স্খলন: সমালোচকদের মতে, এ ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে যে পুঁথিগত বিদ্যা মানুষকে প্রকৃত অর্থে মার্জিত বা সুনাগরিক করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
১৮ জানুয়ারি শেষ হওয়া এই আন্তর্জাতিক বইমেলায় এবার ৩৫টি দেশের এক হাজারের বেশি প্রকাশক অংশ নিয়েছিলেন। প্রতি বছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছিল, কিন্তু শেষ দিনের এই ঘটনা মেলার দীর্ঘ ঐতিহ্য ও আভিজাত্যে এক কালো দাগ লেপে দিয়েছে।