
ডেস্ক প্রতিবেদক | ঢাকা শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই তিন মৌলিক বিষয়ে কঠোর অবস্থান না নিলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও পরিকল্পনার কোনো সুফলই জনগণের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে না।
আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ অনুষ্ঠানে দলের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে ‘মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র’ গঠনের লক্ষ্য সামনে রেখে বিএনপির ৯টি অগ্রাধিকার খাত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বিএনপি কখনো দুর্নীতির সঙ্গে আপস করবে না। আমাদের সরকার হবে স্বচ্ছতার প্রতীক। ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট আইন সংস্কারের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।”
২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর পরিস্থিতি থেকেই বিএনপি দায়িত্ব নিয়েছিল। তিনি দাবি করেন, “আমাদের সময়ে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, যার ফলে দুর্নীতির ধারণা সূচকে (CPI) বাংলাদেশের অবস্থান ধারাবাহিকভাবে উন্নত হয়েছিল।”
বিএনপির এবারের ইশতেহারকে কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি ‘নতুন রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তারেক রহমান। ইশতেহারে নয়টি প্রধান খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
আইনের শাসন: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
অর্থনৈতিক সংস্কার: বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও কর্মসংস্থান তৈরি।
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার: রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা।
বিকাল সাড়ে তিনটায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। প্রায় দুই ঘণ্টার বক্তব্যে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে বিএনপির রোডম্যাপ তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তারেক রহমান পুনরায় দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “জনগণের রায়ে সরকার গঠন করতে পারলে দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা—এই তিন বিষয়েই হবে বিএনপির সর্বাধিক গুরুত্ব।”