
ফারসি ‘শবে বরাত’ শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। হিজরি শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি হাদিসের পরিভাষায় ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বা মধ্য-শাবানের রজনী হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ এ রাতে মহান আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দোয়ায় মশগুল থাকেন।
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "আল্লাহ তাআলা মধ্য-শাবানের রাতে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং বনু কালব গোত্রের ভেড়ার পশমের চেয়েও বেশি সংখ্যক মানুষকে ক্ষমা করেন।" (সুনানে ইবনে মাজাহ)
অপর এক হাদিসে আবু মুসা আশআরি (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি (সা.) বলেন, "আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে তাঁর সৃষ্টির দিকে দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।"
ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এ রাতে বিভিন্ন ইবাদতে নিজেদের নিয়োজিত রাখছেন:
নফল নামাজ ও তাহাজ্জুদ পড়া
কোরআন তিলাওয়াত ও তাফসির অধ্যায়ন
জিকির-আজকার ও দরুদ শরিফ পাঠ
ক্ষমা প্রার্থনা ও ভবিষ্যৎ কল্যাণ কামনায় দোয়া-মোনাজাত
কবর জিয়ারত ও দান-সদকা করা
ইসলামি চেতনা পরিপন্থী কিছু প্রথা সম্পর্কে ধর্মীয় আলেমরা সতর্ক করেছেন:
আতশবাজি, পটকা ফোটানো বা অহেতুক শব্দ সৃষ্টি থেকে বিরত থাকা
অপচয়মূলক আলোকসজ্জা ও বাহ্যিক আড়ম্বর এড়ানো
ইবাদত বাদ দিয়ে রাস্তায় ঘোরাফেরা বা উৎসবমুখর আচরণ না করা
হালুয়া-রুটির প্রথাকে ধর্মীয় আবশ্যকতা মনে না করা
পবিত্র শবে বরাতের রাতটি আত্মশুদ্ধি, তওবা ও আত্মসমালোচনার জন্য বিশেষ সুযোগ বলে ধর্মীয় পণ্ডিতরা মনে করেন। অন্যের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ ত্যাগ করে হৃদয়কে পবিত্র করা এবং মানবিক গুণাবলি বিকাশের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনই এ রাতের মূল শিক্ষা।
শবে বরাতের পর থেকেই রমজান মাসের প্রস্তুতি শুরু হয়। তাই এই রাতটি রমজানের আগমনী বার্তাও বয়ে আনে বলে মুসলমানরা বিশ্বাস করেন।