
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান অতীত ভুল-ত্রুটির জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে দলের পক্ষে সমর্থন চেয়েছেন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিটিভিতে প্রচারিত জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, "অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে অর্জনগুলোকে অবলম্বন করে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনের জন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে আবারও আমি আপনাদের সমর্থন চাই।"
তিনি অতীতে বিএনপি সরকারের সময়কার "অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুলত্রুটি" এর জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, "১২ ফেব্রুয়ারি সারা দিন ধানের শীষে ভোট দিন।" তিনি 'ধানশীষ' প্রতীকের পক্ষে ভোট দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান এবং বলেন, "ধানশীষের বিজয়ের অর্থ বাংলাদেশের বিজয়।"
তারেক রহমান দাবি করেন, "প্রতিটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের কাছে রাষ্ট্র ও সরকারকে দায়বদ্ধ রাখার কোনো বিকল্প নেই।" তিনি অঙ্গীকার করেন যে, বিএনপি সরকার পেলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর হবে এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, "বিএনপি এমন একটি নিরাপদ বাংলাদেশ করতে চায়, যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সব নাগরিক নিরাপদ থাকবে।" তিনি 'ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার' নীতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বলেন, "দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ ধর্মীয় চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদ কোনোটিকেই পছন্দ করে না।"
তারেক রহমান তার পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া "জেল-জুলুম বরণ করেছেন, কিন্তু বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে আপস করেননি।"
তিনি অঙ্গীকার করেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সংবিধানে 'সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস' কথাটি পুনরায় সন্নিবেশিত করা হবে, যা তার মতে পূর্ববর্তী সরকার সরিয়ে দিয়েছিল।
তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, প্রবাসী কার্ড, বেকার ভাতা চালু এবং সরকারি কর্মচারীদের সময়মতো জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণার মতো প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
৩৭ মিনিটের এই ভাষণে বিএনপি চেয়ারম্যান দেশ পরিচালনায় তার পরিকল্পনা এবং দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।