# ধান সংগ্রহ অভিযানে অনিয়ম: ৫০ টাকার চালের বদলে ঢুকছে ‘পশু-পাখির খাবার’

- Link: https://dailybogratimes.com/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b9-%e0%a6%85%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc/
- Published: 2026-01-21T07:50:36+06:00
- Author: বার্তা বিভাগ

[[

**ডেস্ক প্রতিবেদক | **

খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার যখন [সরাসরি কৃষকের কাছ](https://dailybogratimes.com/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b9-%e0%a6%85%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc/)
থেকে ন্যায্যমূল্যে ধান ও চাল সংগ্রহের অভিযান চালাচ্ছে, তখন মাদারীপুরের সরকারি খাদ্যগুদামগুলোতে
নিম্নমানের চাল সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। ৫০ টাকা কেজি দরে উন্নত মানের সেদ্ধ চাল কেনার
কথা থাকলেও গুদামজাত করা হচ্ছে বাজারমূল্যে ৩৫-৪০ টাকার অত্যন্ত নিম্নমানের ‘হাইব্রিড’
চাল, যা সাধারণত পশু-পাখির ফিড হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

### সরকারি লক্ষ্যমাত্রা ও নির্ধারিত দর

খাদ্য বিভাগের তথ্যমতে, এবারের আমন মৌসুমে প্রতি কেজি সেদ্ধ চাল ৫০ টাকা, আতপ চাল ৪৯
টাকা এবং ধান ৩৪ টাকা সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। মাদারীপুর সদর উপজেলায় এ 
বছর ৬৬৫ টন সেদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ইটেরপুল খাদ্যগুদামে
৩০০ টন ও চরমুগুরিয়া গুদামে ৩৬৫ টন চাল গুদামজাত করার নির্দেশনা রয়েছে।

### সরেজমিনে পাওয়া চিত্র: ফিড তৈরির চাল গুদামে

সদর উপজেলার ইটেরপুল ও চরমুগুরিয়া খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করে এবং গুদাম কর্মকর্তাদের
উপস্থিতিতে চালের নমুনা সংগ্রহ করে দেখা গেছে, সরবরাহকৃত চালের মান অত্যন্ত নিম্নমুখী।
স্থানীয় চাল ব্যবসায়ীদের মতে, এ ধরনের চাল বাজারে কোনো সাধারণ ক্রেতা কেনেন না।

চাল ব্যবসায়ী শাহ আলম ব্যাপারী ও নাইম তালুকদার জানান, “এই চালের খুচরা বাজারমূল্য 
৩৫ থেকে ৪০ টাকা। এগুলো মূলত হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু বা মাছের ফিড তৈরির কাজে ব্যবহৃত
হয়। কোনো সুস্থ মানুষ এই চাল কিনে খান না।”

### কর্মকর্তাদের সাফাই ও দায় এড়ানোর চেষ্টা

নিম্নমানের চাল সংগ্রহের বিষয়ে জানতে চাইলে ইটেরপুল গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সঞ্জয়
সাহা বলেন, “সরকারের নির্দেশনা মেনেই আমরা চাল সংগ্রহ করছি। মিল মালিকরা হাইব্রিড চালই
বেশি দিচ্ছেন। হাইব্রিড চালের বাজারমূল্য কম হলে আমাদের কী করার আছে?”

অনুরূপ সুর শোনা গেছে চরমুগুরিয়া গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ মল্লিকের 
কণ্ঠেও। তিনি দাবি করেন, অধিকাংশ চালই ভালো মানের, তবে ‘হয়তো কিছু চাল এদিক-ওদিক হতে
পারে’।

### জেলা প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

বিষয়টি নিয়ে জেলা খাদ্য কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি
জানান। উল্টো সাংবাদিকরা কেন গুদামে গেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে মাদারীপুর
জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল না। তিনি দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের এই মহৎ উদ্যোগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদল মিল মালিক ও অসাধু
কর্মকর্তা নিম্নমানের চাল সরবরাহ করে বিশাল অঙ্কের সরকারি টাকা আত্মসাৎ করছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে
খাদ্য মজুত ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।
