
ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের চাঁন্দিয়ার গ্রামে জমি বিক্রির বায়নার টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ব্যক্তি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চাঁন্দিয়ার গ্রামের বাসিন্দা মো. হাসান আলী (৪৫) দাবি করেন, প্রায় আড়াই বছর আগে একই গ্রামের আনছার সেখের কাছ থেকে এক শতাংশ জমি কেনার জন্য ৬০ হাজার টাকা বায়না দেন। সে সময় তিন মাসের মধ্যে খাজনা-খারিজ সম্পন্ন করে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও জমি রেজিস্ট্রি না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি।
হাসান আলীর অভিযোগ, গত ১ জুন রাত ১০টার দিকে জমি সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে আরেকটি সালিস বৈঠক বসে। সেখানে তিনি জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার দাবি জানান। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিভিন্ন অজুহাত দেখালে তিনি বায়নার ৬০ হাজার টাকা ফেরত চান। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে আনছার সেখ ও তাঁর ছেলে নাঈম সেখ বাঁশের লাঠি দিয়ে হাসান আলীর ছেলে পাপ্পুকে মারধর করেন। তাঁকে রক্ষা করতে গেলে হাসান আলীকেও মারধর করা হয়। পরে তাঁরা ঘরে আশ্রয় নিলে অভিযুক্তরা ঘরে ঢুকে ভাঙচুর চালান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মো. আনছার সেখ, নাঈম সেখ, আনিছুর সেখ, এখলাছুর রহমান সেখ (বাবু) ও তাইম সেখের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. আনছার সেখ বলেন, অভিযোগকারী যে অভিযোগ করেছেন, তা সঠিক নয়। ঘটনার দিন উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছে। টাকা নিয়েছি টাকা ফেরত দেবো। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”