
নওগাঁ প্রতিনিধি"
নওগাঁর হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র দুই বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার কারণ জানতে চাইতে গিয়ে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালকের মামলার হুমকির মুখে পড়েছেন যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার শফিক ছোটন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার টেলিভিশন সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
রোববার দুপুর দেড়টার দিকে নওগাঁ জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি কেন বন্ধ রয়েছে এবং কবে চালু হবে, এ বিষয়ে তথ্য জানতে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক গোলাম মো. আজমের কাছে যান যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার শফিক ছোটন। এ সময় তিনি সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও মারমুখী আচরণ করেন এবং তার ভিডিও জার্নালিস্টকেও গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার খবর পেয়ে জেলার বিভিন্ন টেলিভিশনে কর্মরত সাংবাদিকরা বেলা ৩টার দিকে পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে যান। সেখানে এনটিভির সিনিয়র রিপোর্টার আসাদুর রহমান জয়, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের হারুন অর রশিদ চৌধুরী, স্টার নিউজের তৌহিদ ইসলাম, বৈশাখী টিভির আরমান হোসেন রুমন, ডিবিসি নিউজের একে সাজু, চ্যানেল নাইনের রিফাত হোসেন সবুজ, এশিয়ান টিভির রাশেদুজ্জামানসহ ১০ থেকে ১২ জন সাংবাদিকের উপস্থিতিতে উপপরিচালক গোলাম মো. আজম অন ক্যামেরায় যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক ও ক্যামেরাপার্সনের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা বলেন বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত সাংবাদিকরা।
এ ঘটনায় নওগাঁ জেলা টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটির নেতারা দাবি করেছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণ সরকারি কর্মচারী আচরণবিধির পরিপন্থী। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বৈশাখী টেলিভিশনের সাংবাদিক আরমান হোসেন রুমন বলেন, দীর্ঘদিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন। এ বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে উপপরিচালক গোলাম মো. আজম সাংবাদিক শফিক ছোটনের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন। পরে অন্য সাংবাদিকরা সেখানে গেলে সবার সামনেই প্রকাশ্যে মামলার হুমকি দেন। একজন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীর এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার শফিক ছোটন বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা নতুন ভবন নির্মাণ, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং দ্রুত চিকিৎসাসেবা চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন। সেই বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে উপপরিচালক আকস্মিকভাবে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং পরে মামলা করার হুমকি দেন।
নওগাঁ জেলা টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এনটিভির সিনিয়র রিপোর্টার আসাদুর রহমান জয় বলেন, সহকর্মীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের খবর পেয়ে সেখানে যাই। পরে ওই কর্মকর্তার আচরণ স্বাভাবিক মনে হয়নি। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনেই হুমকি দিয়েছেন।
সংগঠনটির সভাপতি ফরিদুল করিম বলেন, জনগণের স্বার্থে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সাংবাদিকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। দ্রুত ওই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা না হলে টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক গোলাম মো. আজম বলেন, যমুনা টেলিভিশনের ভিডিও জার্নালিস্ট অনুমতি ছাড়া ক্যামেরা চালু করেছিলেন। সে সময় তিনি কিছুটা উচ্চস্বরে কথা বলেছেন, তবে মারমুখী আচরণ করেননি। ক্যামেরায় বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে মামলা করার হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, "মামলার হুমকি দিইনি। আজই নওগাঁ সদর থানায় যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক ও ক্যামেরাপার্সনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করব।"