
অর্থনীতি প্রতিবেদক: সরকারি চাকুরেদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন পে স্কেলের বিস্তারিত প্রস্তাবনা সামনে এসেছে। প্রস্তাবিত এই পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন যেমন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে, তেমনি প্রাথমিকের শিক্ষকরা বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেতন পাবেন। তবে বাজার ব্যবস্থায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা।
বেতন বৈষম্য কমাতে এবারের পে স্কেলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মোট ২০টি গ্রেডের এই কাঠামোতে:
সর্বনিম্ন বেতন: ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা।
সর্বোচ্চ বেতন: ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের বর্তমান গ্রেড অনুযায়ী বড় অঙ্কের সুবিধা পাবেন। উদাহরণস্বরূপ, ১৩তম গ্রেডের একজন শিক্ষকের মূল বেতন ১১,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৪,০০০ টাকা হতে পারে। নিম্ন গ্রেডগুলোতে বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি রাখা হয়েছে এবং টিফিন ভাতাসহ আনুষঙ্গিক সুবিধা বাড়ানোর জোর সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিশন প্রধান জাকির আহমেদ খান জানান, এই নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে ১৪ লাখ কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর পেছনে সরকারের বার্ষিক ব্যয় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন:
গত এক দশকে জীবনযাত্রার ব্যয় ও দ্রব্যমূল্য বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সুপারিশ বাস্তবসম্মত।
১৮৪টি সভা এবং ২,৫৫২ জনের মতামতের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
কমিশন নির্ধারিত বাজেটের মাত্র ১৮ শতাংশ ব্যয় করে সময়ের আগেই কাজ সম্পন্ন করেছে।
২০২৫ সালের ২৭ জুলাই গঠিত এই কমিশন নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদন গ্রহণ করে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, এখন পরবর্তী ধাপ হলো এটি বাস্তবায়ন করা। এই লক্ষ্যে একটি বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হবে, যারা এর পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করবে।