
নন্দীগ্রাম (বগুড়া): বগুড়ার নন্দীগ্রামে বৃহস্পতিবার দুপুরে এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আরাকে তাঁর কার্যালয়ে দুর্বৃত্তরা জিম্মি করেছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে থমথমে হয়ে ওঠে পুরো উপজেলা পরিষদ এলাকা।
ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই নন্দীগ্রাম ৪০ বীর সেনা ক্যাম্পের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে কৌশলগত অবস্থান নেয়। চারদিকে সাইরেনের শব্দ, সেনাসদস্যদের অস্ত্র হাতে দৌড়ঝাঁপ ও কঠোর তৎপরতায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর কমান্ডো স্টাইলে অভিযান চালিয়ে ‘দুর্বৃত্তদের’ আটক এবং ইউএনওকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
অভিযান সফল হওয়ার কিছুক্ষণ পরই জানা যায় আসল রহস্য। পুরো ঘটনাটি কোনো বাস্তব নাশকতা ছিল না; বরং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাচাইয়ের জন্য যৌথ বাহিনীর একটি পরিকল্পিত মহড়া ছিল এটি।
মহড়া চলাকালীন সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল ও ভীতির সৃষ্টি হয়। তবে বিষয়টি পরিকল্পিত জানার পর উৎসুক জনতার মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সহিংসতা বা জিম্মি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি যাচাইয়ের লক্ষ্যেই এই আয়োজন। এর মূল দিকগুলো ছিল:
আন্তঃবাহিনী সমন্বয়: বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে দ্রুত যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ানো।
সক্ষমতা যাচাই: ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে প্রবেশ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরীক্ষা।
নিরাপত্তা নিশ্চিত: মাঠ পর্যায়ে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা অর্জন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আরা বলেন:
"জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতেই এ ধরনের মহড়া প্রয়োজন। এতে বাস্তব পরিস্থিতিতে কাজ করা আরও সহজ হয়।"