প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১০, ২০২৬, ২:৪৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ণ
নবাবগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে খাঁটি আখের গুড় তৈরি

জাহাঙ্গীর আলমের ভাষ্যমতে, তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে কোনো রাসায়নিক ছাড়াই আখের রস থেকে গুড় তৈরি করে আসছে। মাঠের তাজা আখ থেকে সংগ্রহ করা রস বড় কড়াইয়ে ৪-৫ ঘণ্টা জ্বাল দিয়ে ঘন করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় সালফার, হাইড্রোজেন বা অন্য কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না। গুড় পরিষ্কারের জন্য ঔষধি গাছের ছাল ব্যবহার করা হয়, যা ডায়াবেটিস ও অন্যান্য রোগে উপকারী বলে পরিচিত। এছাড়া ফেনা কমানোর জন্য অল্প পরিমাণ ডালডা বা সরিষার তেল দেওয়া হয়।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “পুরোনো পদ্ধতি হলেও বাপ-দাদার স্মৃতি ধরে রাখতে আগের নিয়মেই গুড় তৈরি করছি। এতে গুড়ের আসল স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিগুণ অটুট থাকে।” তার তৈরি গুড়ের চাহিদা দিন দিন বাড়লেও তিনি সরকারি সহযোগিতা পেলে আরও বড় পরিসরে উৎপাদন সম্প্রসারণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
নবাবগঞ্জে ভেজাল গুড়ের কারখানা থাকলেও প্রশাসনের অভিযান ও সচেতনতা সত্ত্বেও জাহাঙ্গীর আলমের সততা ও মানসম্মত পণ্য স্থানীয়দের আস্থা অর্জন করেছে। এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠরা তার কাজের প্রশংসা করে বলেন, “তার গুড়ে কোনো ভেজাল থাকে না, তাই দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ গুড় কিনতে আসে।”
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আখ চাষে বিশেষ সহযোগিতা করলে এই ঐতিহ্যবাহী পণ্য দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
Copyright © 2026 Bogra Times | বগুড়া টাইমস. All rights reserved.