
বগুড়ায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও চলচ্চিত্রে নায়িকা বানানোর আশ্বাস দিয়ে এক নারীকে ধর্ষণ এবং নির্যাতনের অভিযোগে ইউটিউবার ও আলোচিত ব্যক্তিত্ব আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের থানা সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ দায়ের করা একটি মামলায় গত ১০ ফেব্রুয়ারি হিরো আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। সম্প্রতি তিনি নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন, এমন খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশ তাকে ধরতে গেলে তিনি ঢাকায় পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ গাড়ি নিয়ে ধাওয়া করে শাজাহানপুর থানা সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে এবং আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত বছরের ৬ মে এক নারী বাদী হয়ে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগ তদন্তের জন্য পিবিআইয়ের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে পিবিআই ১০ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় মামলার অপর পাঁচ আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হিরো আলম বিয়ের প্রতিশ্রুতি এবং নায়িকা বানানোর আশ্বাস দিয়ে ওই নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরে তিনি একজন মৌলভী ডেকে কবুল বলিয়ে তাকে বিয়ে করার কথা বলে বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে একসঙ্গে বসবাস করেন। একপর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে গত বছরের ১৮ এপ্রিল তাকে বাড়িতে নিয়ে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেওয়া হয়। তার রাজি না হওয়ায় ২১ এপ্রিল হিরো আলমসহ অন্য অভিযুক্তরা তাকে মারধর করেন। গুরুতর রক্তক্ষরণ হলে তাকে শহরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়, যেখানে তার গর্ভপাত ঘটে। পরবর্তীতে ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল তিনি বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ রয়েছে, সিনেমা তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে হিরো আলম ওই নারীর কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ধার নেন।