
ডেস্ক প্রতিবেদক | ঢাকা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে দেশজুড়ে যৌথ বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ভোটের আগে চার দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পরবর্তী সাত দিন—মোট ১১ দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে থাকবে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত এই যৌথ বাহিনী।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সভায় স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি জানান, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবার আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হবে। তিনি বলেন:
আগামী ৫ দিনের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে বডি ক্যামেরা পৌঁছে যাবে।
ভোটকেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারির জন্য পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী প্রয়োজনে ড্রোন ব্যবহার করবে।
বডি ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে সরাসরি (Live) সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে এবং প্রতিটি ঘটনা রেকর্ড করা হবে।
স্বরাষ্ট্র সচিব আরও জানান, আজ থেকেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে। এই টিমগুলো নির্বাচন-সংক্রান্ত মাঠপর্যায়ের যাবতীয় তথ্য ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং ও রেকর্ড করবে। সভায় বডি ক্যামেরা ব্যবহারের কার্যকারিতা নিয়ে একটি ভিডিওচিত্রও উপস্থাপন করা হয়।
প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সভায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ আরও বেগবান করতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বডি ক্যামেরা ও ড্রোনের ব্যবহার মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।