
নির্বাচনী কৌশলগত সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে নীলফামারীতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। এ পরিস্থিতিতে ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জোরালো হয়েছে।
জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করেন তুহিন চৌধুরী। তৃণমূল সংগঠন শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেন। তবে নির্বাচনের ঠিক আগে তাকে ওই আসন থেকে সরিয়ে নীলফামারী-২ (সদর) আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
এ সিদ্ধান্তে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। তাদের বক্তব্য, যেখানে দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ছিল, সেখানে শেষ মুহূর্তে আসন পরিবর্তন করলে ফলাফল নেতিবাচক হওয়াই স্বাভাবিক। তারা মনে করেন, এ কৌশলগত পরিবর্তন জেলার রাজনৈতিক অবস্থানে প্রভাব ফেলেছে।
নীলফামারী জেলা উন্নয়ন মঞ্চের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আহসান হাবিব লেলিন বলেন, নির্বাচনী বাস্তবতায় কাঙ্ক্ষিত ফল না এলেও জেলার উন্নয়ন থেমে থাকা উচিত নয়। তার মতে, তুহিন চৌধুরীকে রাষ্ট্র পরিচালনায় যুক্ত করা গেলে তৃণমূলের মনোবল বাড়বে এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আসবে।
তিনি আরও বলেন, নীলফামারীর মানুষের প্রত্যাশা, বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্ব পাবে।
সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী চাইলে সংসদ সদস্য নন এমন কাউকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিতে পারেন। এ ধরনের মন্ত্রীকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী বলা হয়। সংবিধানের ৫৬(২) অনুচ্ছেদে এ বিধান রয়েছে। অতীতেও দেশে একাধিক টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন।
নীলফামারীর বিভিন্ন মহল, ছাত্রসমাজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন একই দাবি শোনা যাচ্ছে। জেলার উন্নয়ন ও সাংগঠনিক ভারসাম্য রক্ষায় তুহিন চৌধুরীকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।